ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের গড় রফতানি মূল্য আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের গড় রফতানি মূল্য প্রতি কেজিতে ৮.৪৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩.৮০ ইউরোতে। ইউরোপে পোশাক সরবরাহকারী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন অন্যতম সর্বনিম্ন মূল্যের রফতানিকারক হিসেবে অবস্থান করছে, যেখানে কেবল পাকিস্তান বাংলাদেশের নিচে রয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করলে পোশাক বাজারের এক বড় বৈষম্য চিত্র ফুটে ওঠে। একই সময়ে ভিয়েতনাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রতি কেজি পোশাক রফতানি করেছে গড়ে ২৯ ইউরোতে, যা বাংলাদেশের গড় মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি। ভিয়েতনামের এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল কারণ তারা উচ্চমূল্যের ফ্যাশনেবল ও প্রিমিয়াম পোশাক রফতানিতে নজর দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এখনও মূলত কম দামি বা ‘লোয়ার-এন্ড’ পোশাক রফতানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে কম দামে পোশাক রফতানির এই ধারাবাহিক প্রবণতা স্থানীয় তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। উৎপাদন খরচ ও বিশ্বজুড়ে কাঁচামালের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে না পারা রফতানিকারকদের মুনাফায় বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এবং পোশাক খাতের আয় বাড়াতে বাংলাদেশকে এখন কম দামি পোশাকের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে মৌলিক পণ্যের পাশাপাশি দ্রুত উচ্চমূল্যের ও উচ্চমানের পোশাক উৎপাদনে মনোযোগ বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।



