কক্সবাজারের চকরিয়ার মেয়ে ২৮ বছর বয়সী নাজমা আক্তার জন্ম থেকেই এক হাতের নিম্নভাগ ছাড়া বেড়ে উঠেছেন। শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতা, সমাজের অবহেলা এবং স্বজন ও স্থানীয়দের কটু কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য কোনোটাই তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গিয়েছেন অবিচল পদক্ষেপে।
পড়াশোনার পথটি নাজমার জন্য একেবারেই সহজ ছিল না। এসএসসি ও এইচএসসি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তিনি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্বাবলম্বী হওয়ার এই দীর্ঘ যাত্রায় নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে তাঁকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের টিউশনি করেছেন, বিভিন্ন সময়ে লজিং থেকেছেন এবং পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা বৃত্তি ও প্রতিবন্ধী ভাতার সহায়তায় নিজের পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন।
নাজমার এই আত্মত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রম অবশেষে সফলতার মুখ দেখেছে। তিনি এখন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কর্মরত আছেন। ২০২৩ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে পৌঁছে নাজমা তাঁর স্বাবলম্বী হওয়ার এবং কর্মসংস্থান অর্জনের পেছনে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির মানুষের ভালোবাসাপূর্ণ সমর্থন ও অকৃত্রিম সহায়তার কথা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। অদম্য ইচ্ছা আর আত্মপ্রত্যয় থাকলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব, নাজমা আক্তার তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।



