চুয়াডাঙ্গার গ্রামীণ অঞ্চলে একসময় মেছো বিড়ালকে বিপদজনক শিকারি প্রাণী হিসেবে ভয় পাওয়া হতো। দেখতে হিংস্র মনে হওয়ায় স্থানীয় মানুষ অনেক সময় এদের ভুল করে “মিনি টাইগার” বা ছোট বাঘ বলেও মনে করত। অজ্ঞতা ও ভয়ের কারণে এই দুর্লভ প্রাণীগুলো প্রায়শই মানুষের আক্রমণের শিকার হতো।
তবে প্রায় এক দশক আগে উদ্ধার হওয়া একটি মেছো বিড়ালের ছানা পুরো চিত্রটি বদলে দেওয়ার সূচনা করে। ঘটনাটি অনুপ্রাণিত করে স্থানীয় শিক্ষক বখতিয়ার হামিদ এবং একদল স্বেচ্ছাসেবীকে। প্রাণীটিকে রক্ষার তাগিদ থেকে তারা গড়ে তোলেন স্থানীয় সংগঠন ‘পানকৌড়ি’। সংগঠনটির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীরা গ্রামে গ্রামে, হাট-বাজারে এবং স্কুলে স্কুলে গিয়ে মেছো বিড়াল সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান শুরু করেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মেছো বিড়ালের প্রতি মানুষের চিরাচরিত ভুল ধারণা ও ভয় দূর করা।
তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টার ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পানকৌড়ি সংগঠনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি মেছো বিড়াল উদ্ধার করে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে জলাভূমি ও মেছো বিড়ালের আবাসস্থল কমে যাওয়ার কারণে এদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষকরা চুয়াডাঙ্গার জলাভূমি, মেছো বিড়ালের বিচরণ এবং মানুষের সাথে এদের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং গবেষকদের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।



