আমাদের দেশে অনেকেই মনে করেন, পান্তা ভাত মানেই কেবল পয়লা বৈশাখের দিনে ইলিশ মাছ দিয়ে খাওয়ার উৎসব। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ইলিশের সঙ্গে পান্তার আসলে কোনো সম্পর্কই নেই ! মূলত এটি আবহমান বাংলার কৃষিজীবী মানুষের চিরকালের খাবার । আর চমকপ্রদ খবর হলো, আধুনিক বিজ্ঞান বলছে সাধারণ এই পান্তাতেই লুকিয়ে আছে সুস্বাস্থ্যের বড় রহস্য।
যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন, সাধারণ ভাতের চেয়ে পান্তা ভাত খেলে মানুষের রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক কম হারে বাড়ে । চমকে যাওয়ার মতো তথ্য হলো- সাদা ভাতে যেখানে মাত্র ৭৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে, সেখানে পান্তা ভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯৯ মিলিগ্রামে !
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পান্তা তৈরির ‘ফারমেন্টেশন’ বা গাঁজন প্রক্রিয়ার ফলে খাবারের ভেতরে প্রচুর উপকারী অণুজীব তৈরি হয় । এসব অণুজীব আমাদের শরীরের পুষ্টি বাড়াতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায় । এমনকি পান্তার এই উপকারী উপাদানগুলো ত্বকের জন্যও বেশ ভালো হতে পারে ।
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার কৃষকেরা মাঠে কাজ করার সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে পান্তা ভাত খেয়ে আসছেন । এমনকি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারেও পান্তা খাওয়ার দারুণ চল ছিল ।
তাই আধুনিক যুগে সুস্বাস্থ্যের জন্য দামি বা বিদেশি খাবারের পেছনে না ছুটে, পেঁয়াজ, কাঁচা বা পোড়া মরিচ, লবণ আর একটু সরিষার তেল মেখে এক থালা পান্তা হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সেরা ও স্বাস্থ্যকর পছন্দ।



