একই সময়ে চলছে আইপিএল ও পিএসএল। ভারত-পাকিস্তানের জনপ্রিয় এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে প্রথম সারির ক্রিকেটারদের ছাড়াই বাংলাদেশ সফর করছে নিউজিল্যান্ড। ২০১০ ও ২০১৩ সালে কিউইদের প্রথম সারির দল বাংলাদেশে এসে ধবলধোলাই হয়েছিল, তাই এবার ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষের দুর্বল দল নিয়ে তুলনামূলক নির্ভার থাকার কথা। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর মতে, নিউজিল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলের কাছেও হারতে পারে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড যথেষ্ট ভালো দল এবং সব সংস্করণেই যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় ফেলে। ঘরের মাঠে আমাদের পয়েন্টগুলো প্রয়োজন।’
এ বছরের জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড।但那সিরিজে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়া মিচেল এবার নেই। সাত উইকেট পাওয়া ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কও চোটে আসছেন না। সীমিত ওভারের নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে আইপিএলে ব্যস্ত। তাঁর অনুপস্থিতিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন টম লাথাম। তিনিই এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। এছাড়া গ্লেন ফিলিপস, রাচীন রবীন্দ্ররা খেলবেন আইপিএলে, আর পিএসএলে ব্যস্ত ডেভন কনওয়ে, ড্যারিল মিচেলরা।
নান্নু মনে করেন, নিয়মিত অধিকাংশ ক্রিকেটার পরিবর্তন করে আনা এই দলকে হালকাভাবে নিলে বিপদে পড়তে পারে বাংলাদেশ। আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা নয়ে থাকা দল সরাসরি খেলবে ২০২৭ বিশ্বকাপ। বর্তমানে ৯ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৯, আর শীর্ষে থাকা ভারতের ১১৯। ১১৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডকে হারালে রেটিংয়ে উন্নতি হবে বাংলাদেশের। কিউইদের পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষেও সিরিজ খেলার কথা রয়েছে।
১৭ এপ্রিল থেকে মিরপুরে শুরু হচ্ছে ওয়ানডে সিরিজ। নান্নুর কাছে এই সিরিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের সেরাটা সঠিক সময়ে দিতে হবে। এই সিরিজ থেকে কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স চাই যা আগামী সিরিজে কাজে লাগবে।’ গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতলেও টপ অর্ডার ভালো করেনি। তানজিদ হাসান তামিম ছাড়া উদ্বোধনী জুটিতে সঙ্গী সাইফ হাসান তিন ম্যাচে মাত্র ৫২ রান করেন। বেশির ভাগ সময় ৫০ রানের আগেই ভেঙে গেছে উদ্বোধনী জুটি।
নান্নু আরও বলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের পাইপলাইন মজবুত থাকলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উন্নতি সম্ভব। হাই পারফরম্যান্স ইউনিট ও ‘এ’ দলের টাইগার্স ইউনিট দিয়ে খেলোয়াড়দের তৈরি করতে হয়। ১৭ ও ২০ এপ্রিল মিরপুরে প্রথম দুই ওয়ানডে, ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডে। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ: ২৭ ও ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে, শেষ ম্যাচ ২ মে মিরপুর শেরেবাংলায়।



