নাটকীয়তায় ভরা এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে হারের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে টাইগাররা। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম, আর শেষ মুহূর্তে শেখ মেহেদী হাসানের গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারিতে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। শেখ মেহেদী হাসানের বলে দ্রুত বিদায় নেন ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিয়ন মেয়ার্স দলকে এগিয়ে নিলেও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি স্বাগতিকদের। বেনেট ৪৭ রান করে আউট হন, আর মেয়ার্স লড়াকু ৭৩ রানের ইনিংস খেললেও শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রানেই থামে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুটি উইকেট নেন, আর শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন ও আবদুল গাফফার সাকলাইন একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার সাইফ হাসানের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনের জুটিতে কিছুটা স্থিতি ফেরে। ইমন ২৪ রান করে বিদায় নিলেও তানজিদ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলের জয়যাত্রা এগিয়ে নেন। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশকে এনে দেন। তানজিদের দুর্দান্ত ফিফটি দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
তবে সহজ মনে হওয়া ম্যাচ শেষ দিকে রীতিমতো রোমাঞ্চে ভরে ওঠে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫ রান। ব্র্যাড ইভান্সের দুর্দান্ত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট পড়ে গেলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। কিন্তু সংকটময় মুহূর্তে শেখ মেহেদী হাসান অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি চার হাঁকান। তাতেই ২ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু ম্যাচ নয়, ২-১ ব্যবধানে পুরো সিরিজও নিজেদের করে নেয় টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের হতাশা কাটিয়ে ধারাবাহিক দুই জয়ে সিরিজ জেতা বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় উপলক্ষ হয়ে থাকল।



