বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব বা ‘লিড’ সনদ পাওয়া সবুজ পোশাক কারখানা এখন বাংলাদেশে । কিন্তু চমকে যাওয়ার মতো খবর হলো— কেবল এই ‘সবুজ কারখানা’র তকমা দিয়ে আর ইউরোপের মন গলানো যাবে না! কার্বন বা ধোঁয়া নিঃসরণ কমানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখন অত্যন্ত কড়া এক নতুন আইন চালু করেছে, যার নাম ‘সিবিএএম’ (CBAM) বা কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম ।
নতুন এই নিয়মের ফলে ইউরোপের ব্যবসায়ীদের এখন থেকে পণ্য আমদানির সময় কার্বন নিঃসরণের সঠিক হিসাব দিতে হবে এবং দূষণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ‘কার্বন মূল্য’ পরিশোধ করতে হবে । বর্তমানে সিমেন্ট, লোহা বা বিদ্যুতের মতো খাতগুলো এর আওতায় থাকলেও, ২০৩০ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতকেও এর অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে ইইউর ।
বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ১ হাজার ৯৭১ কোটি ডলার) যায় এই ইউরোপের বাজারে । বিশ্লেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, পোশাক খাত এই নিয়মের আওতায় এলে ইউরোপের বাজারে আমাদের পোশাকের ওপর প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ নতুন ‘সিবিএএম শুল্ক’ বা ট্যাক্স চাপতে পারে । সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গা হলো— ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর ইউরোপে এমনিতেই আমাদের বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হয়ে ১২ শতাংশ শুল্ক বসবে । এর সঙ্গে নতুন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ যোগ হলে মোট শুল্কের বোঝা দাঁড়াবে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে ! এটি কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে চরম প্রতিযোগিতায় ছিটকে পড়তে পারে বাংলাদেশ ।
এই সংকটের মূল কারণ লুকিয়ে আছে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে। দেশের কারখানায় এখনো বিদ্যুতের ৯৫ শতাংশই আসে গ্যাস বা কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, নবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন সৌরবিদ্যুৎ) হার মাত্র ৫ শতাংশ । এর ওপর সোলার প্যানেল বা ব্যাটারি আমদানির ওপর রয়েছে বিশাল শুল্ক, যা পরিবেশবান্ধব হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
ইউরোপীয় ক্রেতারা ভবিষ্যৎ বিপদের কথা ভেবে এখন থেকেই কম কার্বন ছড়ানো কারখানাগুলোকে বেশি কাজ দেওয়া শুরু করেছেন । তাই দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে শুধু ‘সবুজ কারখানার’ গর্ব নিয়ে বসে থাকার দিন শেষ, এখনই দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই ।



