ভাবুন তো, উত্তাল সমুদ্রের ভয়ংকর ঢেউ পেরিয়ে আপনি পৌঁছে গেলেন এমন এক দ্বীপে, যেখানে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে শত শত বছরের পুরোনো সব দেব-দেবীর মূর্তি! আর সেদিনই আবার হেঁটে পার হলেন সমুদ্রের মাঝখানের এমন এক পথ, যা জোয়ারের সময় পানির নিচে তলিয়ে যায়! হ্যাঁ, ভারতের মুম্বাইয়ে গেলে মাত্র এক দিনেই আপনি এই দুই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারেন ।
মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ‘গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া’ থেকে লঞ্চে করে আরব সাগরের বুক চিরে সোয়া এক ঘণ্টার যাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় ‘এলিফান্টা গুহা’য় । পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে পাহাড়ের পাথর কেটে কেটে এই গুহাগুলো তৈরি করা হয়েছিল, যা আজ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ । মজার ব্যাপার হলো, পর্তুগিজরা যখন প্রথম এই দ্বীপে আসে, তখন এখানে বিশাল এক পাথরের হাতির মূর্তি দেখে এর নাম দিয়েছিল ‘এলিফান্টা’ ! ছোট্ট এই দ্বীপে পাহাড়ের গা ঘেঁষে চলার জন্য পর্যটকদের জন্য চমৎকার ‘টয় ট্রেন’-এর ব্যবস্থাও রয়েছে ।
এলিফান্টায় শিব ও বুদ্ধের প্রাচীন গুহাগুলো দেখা শেষ করে, ওই দিনেই ঘুরে আসতে পারেন মুম্বাইয়ের আরেক বিস্ময় ‘হাজি আলীর দরগা’ থেকে । দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ওরলি উপকূল থেকে ৫০০ মিটার দূরে আরব সাগরের বুকেই ১৪৩১ সালে গড়ে উঠেছে এই ঐতিহাসিক দরগা । এখানে যাওয়ার সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো এর সরু রাস্তাটি। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এই হাঁটাপথটি জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিতে একেবারেই ডুবে যায় !
ইতিহাস আর রোমাঞ্চে ভরপুর এলিফান্টা গুহা এবং সমুদ্রের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা হাজি আলীর দরগা—মুম্বাই ভ্রমণের তালিকায় এই দুটি জায়গা না থাকলে আপনার পুরো যাত্রাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে!



