রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দম্পতি ও তাদের শিশু সন্তানসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। নিহতরা হলেন—কুমিল্লার বাসিন্দা কাজী ফজলে রাব্বী (৩৭), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম সুবর্ণা (৩০), তাদের তিন বছর বয়সী ছেলে কাজী ফায়াজ রিশান, রোদেলা আক্তার (১৪), মো. হারিছ (৫২) এবং মো. রাহাব (১৭)।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে আকস্মিক অসুস্থতায় রাব্বীর প্রথম স্ত্রী তিথীর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ শোক কাটিয়ে পরিবারের অনুরোধে তিনি পরে তিথীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী আফরোজা বেগম সুবর্ণাকে বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র সন্তান ছিল কাজী ফায়াজ রিশান। কর্মদিবসে রাব্বী অফিসে যাওয়ার আগে ছেলেকে উত্তরায় নানুর বাসায় রেখে যেতেন এবং ফেরার সময় নিয়ে আসতেন। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সেদিন পুরো পরিবার বাসাতেই অবস্থান করছিল।
হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা রাব্বী, তার স্ত্রী ও শিশুপুত্রসহ ছয়জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। ডাক্তারদের প্রাথমিক ধারণা, তারা দগ্ধ না হয়ে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন। আফরোজার বোন আফরিন জাহান জানান, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পর আফরোজাকে মৃত ঘোষণা করা হয়, অন্যদের মরদেহ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১০টার দিকে পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি; তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। ঢাকায় জানাজা শেষে মরদেহ রাতেই কুমিল্লায় নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।



