করোনাকাল মানুষের জীবনে যেমন বড় পরিবর্তন এনেছে, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ারও। একসময় স্বল্প ধৈর্যের মানুষ হলেও করোনার পর নিজের স্বভাবে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ ও রসবোধপূর্ণ স্ট্যাটাসে নিজের এই বদলে যাওয়ার গল্প খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন অভিনেত্রী।
স্ট্যাটাসে শবনম ফারিয়া জানান, ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সবার ছোট হওয়ায় চাওয়ার আগেই অনেক কিছু পেয়ে যেতেন তিনি। ফলে ধৈর্য কম থাকা তার স্বভাবের অংশ হয়ে গিয়েছিল। তবে ২০২০ সালের কোভিড পরিস্থিতির পর ধীরে ধীরে তার মধ্যে ‘অ্যাবনরমাল লেভেলের ধৈর্য’ চলে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন তিনি সহজে রেগে যান না, অস্থিরও হন না—বরং অনেক বেশি শান্ত ও স্থির হয়ে উঠেছেন।
নিজের এই মানসিক পরিবর্তনের উদাহরণ দিতে গিয়ে ফারিয়া জানান, এখন তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্পেট পরিষ্কার করার ভিডিও দেখতে পারেন। পাশাপাশি বিলাসবহুল হারমেস ব্র্যান্ডের বারকিন ও কেলি ব্যাগের সেকেন্ডারি মার্কেটের কেনাবেচার ভিডিওও তার নিয়মিত দেখার তালিকায় রয়েছে। এসব ব্যাগের দাম তার বার্ষিক আয়ের চেয়েও বেশি হলেও বিভিন্ন ধরনের চামড়া, সাইজ ও হার্ডওয়্যার নিয়ে আগ্রহের কথা জানান তিনি। এমনকি ‘হিমালায়ান বারকিন’ নিয়েও মজার ছলে মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।
পুরোনো ও ভাঙাচোরা বাড়ি কিনে ধীরে ধীরে সংস্কার করার ভিডিও দেখতেও ভালোবাসেন শবনম ফারিয়া। তার ভাষায়, স্বাভাবিক বাড়ি কেনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মানুষ কেন জঙ্গলঘেরা পুরোনো বাড়ি কিনে বছরের পর বছর ধরে তা সংস্কার করে—এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াই তাকে আকর্ষণ করে।
এই ধরনের কনটেন্ট দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই একসময় একা থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজে বাজার করা, রান্না করা ও ঘর গুছানো—সবকিছুই করতেন। কাউন্সেলরের পরামর্শে ভ্লগ বানানোর চেষ্টাও করেছিলেন, যদিও তা বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। টানা দুই বছরের বেশি সময় একা থাকার অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসে তার লেখায়।
বর্তমান সংসার জীবন নিয়েও হাস্যরসের সঙ্গে কথা বলেন ফারিয়া। কেনাকাটা ও ঘর গোছানোর দায়িত্ব এখনও তার কাঁধে থাকলেও ট্রলি ঠেলা কিংবা ঘর এলোমেলো করার দায়িত্ব নাকি তার স্বামীর। তবে অসুস্থ হলে স্বামীর যত্ন ও সহায়তার প্রশংসাও করতে ভোলেননি তিনি।
করোনাকালে মানুষের খাওয়ার ভিডিও দেখার অভ্যাস ছিল বলেও জানান অভিনেত্রী। আর বর্তমানে তার নতুন আগ্রহ রাজনৈতিক বক্তব্য শোনা। অনেক কথাই যে ফাঁকা আশ্বাস—তা জানলেও মনোযোগ দিয়ে শোনেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
ব্যক্তিগত অভ্যাস, মানসিক পরিবর্তন এবং রসবোধে ভরা এই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই শবনম ফারিয়ার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।



