বলিউড তারকা আমির খানকে দেখে এখন অনেকেই বলছেন—তিনি যেন আবার তরুণ তুর্কি! বয়সের হিসেবে ৬০-এর ঘর পেরোলেও তার সাম্প্রতিক রূপ ও ফিটনেস সবাইকে চমকে দিয়েছে। এরই মধ্যে ১৪ বছরের ছোট প্রেমিকার সঙ্গে প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং ১৮ কেজি ওজন কমানো—সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই বড় পরিবর্তনের জন্য আমির খান জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা করেননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ওজন কমানোর পেছনে তার কোনো কড়া এক্সারসাইজ রুটিন ছিল না। বরং একটি বিশেষ ‘অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি’ ডায়েটই তার শরীরে ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে।
আমির জানান, তার মূল লক্ষ্য আদৌ ওজন কমানো ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে ভোগানো তীব্র মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি এই ডায়েট শুরু করেন। অভিনেতার ভাষায়, “আমি মাইগ্রেনের চিকিৎসার জন্য এই ডায়েট শুরু করি, আর ওজন কমাটা যেন নিজে থেকেই হয়ে যায়। এখন আমার মাইগ্রেনের সমস্যাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।”
পুষ্টিবিদদের মতে, বিজ্ঞানের ভাষায় এই ডায়েটের ভিত্তি হলো শরীরের ‘ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন’ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমানো। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, অ্যালকোহল এবং মানসিক চাপের কারণে শরীরে ‘সাইটোকাইনস’ নামের কিছু রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা ইনসুলিন ও লেপটিন হরমোনের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলেই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকে। এই প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেই শরীর স্বাভাবিকভাবে ওজন ঝরাতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, আমির খানই প্রথম নন—এর আগে অভিনেত্রী বিদ্যা বালানও জানিয়েছিলেন, কোনো নিয়মিত ব্যায়াম ছাড়াই কেবল প্রদাহ-বিরোধী খাবার গ্রহণ করে তিনি ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছিলেন।



