আঁচিল বা ত্বকের ছোট ছোট দানা অনেকের শরীরে দেখা যায়। এটি সাধারণত ভয়ানক কিছু নয়, তবে চোখে পড়লে বা ব্যথা দিলে তা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করেন, আঁচিল দূর করার জন্য ক্লিনিকে যেতে হয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিও কার্যকর হতে পারে।
আঁচিল হওয়ার কারণ
ডা. নাহিদ এ. আলি জানান, আঁচিল সাধারণত হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণের কারণে হয়। এই ভাইরাস তোয়ালে, গামছা বা রেজারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি থাকলেও বড়রাও আক্রান্ত হতে পারেন। যদিও এটি সাধারণত বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে না, তবে অনেক সময় ব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে আঁচিল দূর করার কৌশল
শুকনা মরিচের সস: শুকনা মরিচ বেটে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। প্রতিদিন দুবার আঁচিলের ওপর লাগান এবং দুই সপ্তাহ ধরে চালিয়ে যান। এতে আঁচিল ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায় ও রং ফিকে হয়।
গরম পানি: পানি ফুটিয়ে আঁচিলের জায়গায় কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন যতক্ষণ ব্যথা সহ্য করা যায়। পরে ঠান্ডা পানি বা বরফ লাগান। দিনে তিনবার এভাবে দুই সপ্তাহ করলে উপকার মেলে।
বেইকিং সোডা: এক কাপ পানিতে আধা চা–চামচ বেইকিং সোডা মেশান। তুলার বল ডুবিয়ে আঁচিলের ওপর ১৫ মিনিট রাখুন। এটি আঁচিল শুকাতে সাহায্য করে।
ডিম: ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম মিশিয়ে আঁচিলের ওপর আলতোভাবে ঘষে দিন। দিনে দুবার দুই সপ্তাহ ব্যবহার করলে ফল পাওয়া যায়। এই সময় আঁচিলের জায়গায় সাবান ব্যবহার করা যাবে না।
পেঁয়াজ: পেঁয়াজের প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক গুণ আছে। পেঁয়াজ বেটে আঁচিলের ওপর লাগিয়ে ব্যান্ডেজ দিন। দিনে দুবার ব্যান্ডেজ পরিবর্তন করুন এবং প্রয়োজনে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চালিয়ে যান।
ডাক্ট টেপ: বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর। আঁচিলের ওপর ডাক্ট টেপ ৩–৫ দিন লাগিয়ে রাখুন। ত্বক নরম হলে এমেরি বোর্ড বা পুমাইস স্টোন দিয়ে আঁচিল আলতোভাবে ঘষে ফেলুন। প্রয়োজনে আবার টেপ লাগান, যতক্ষণ না আঁচিল সম্পূর্ণ সেরে যায়।
টিপস:
ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করতে সময় লাগে, তাই ধৈর্য ধরতে হবে।
ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং শরীর সবসময় শুষ্ক রাখুন, এতে আঁচিল হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
যদি আঁচিল ব্যথা দেয়, দ্রুত বড় হয় বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।



