রাজধানী ঢাকার তীব্র যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নগরীর সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রতিদিনের অনিয়ন্ত্রিত যানজট ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে মূলত দুটি বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, ঢাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে তা বন্ধ করার জন্য নিয়মিত অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব পয়েন্টে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় করা হচ্ছিল, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর যেমন চাপ সৃষ্টি করছিল, তেমনই রাজপথে অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা বাড়িয়ে যানজট তীব্র করে তুলছিল। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে গৃহীত পদক্ষেপের যাবতীয় প্রতিবেদন সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সেবা সংস্থাগুলোর অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে আনা হয়েছে নতুন নিয়ম। এখন থেকে ঢাকায় যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ বা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করার আগে ট্রাফিক বিভাগের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কাজ শুরুর আগেই তাদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং নির্ধারিত সময়সূচি জমা দিতে হবে। কোনো ঠিকাদার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে তাকে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার রাজপথের সার্বিক বিশৃঙ্খলা ও যানজট উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। নগরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং বিদ্যুতের অপচয় রুখতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি বিভাগের সঠিক তদারকি ও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।



