অনার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে সিভিল জজ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে তারা এ সাফল্য অর্জন করেন।
সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাই এবার অনার্সের ফল প্রকাশের আগে অ্যাপিয়ার্ড প্রার্থী হিসেবে বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। আইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের এসব শিক্ষার্থী প্রথমবার বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপেই উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
সফল ১০ শিক্ষার্থী হলেন—পারভেজ রহমান, হানিফ, শাওলিন আক্তার আলো, মহিউদ্দিন রুমন, ফজলে রুহানি, মাহিয়া মারইয়াম, সুরাইয়া কবির, ফয়সাল প্রিথুল, এস এম বাকীবিল্লাহ ও আইনুল হক। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিজেএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে আইন বিভাগ তাদের অনার্স পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই মাস আগে আয়োজন করে। ফলে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
নিজের সাফল্যের পেছনে বাবার অনুপ্রেরণাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পারভেজ রহমান। তিনি জানান, বাবার মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যেই নিয়মিত পরিশ্রম করেছেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সাহস জুগিয়েছে। অন্যদিকে মাহিয়া মারইয়াম বলেন, মায়ের দেওয়া অনুপ্রেরণা তাঁকে সবসময় আত্মবিশ্বাসী থাকতে সাহায্য করেছে। তাঁর বিশ্বাস, আন্তরিক পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না।
মাহিয়া কবির জানান, মাস্টার্সের ক্লাস ও পরীক্ষা সামলে বিজেএসের প্রস্তুতি নেওয়া তাঁর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এর মধ্যেও সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়াকে তিনি নিজের জন্য বড় আনন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। অপরদিকে সুরাইয়া কবির জানান, জুডিশিয়ারিতে আসা মূলত তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিল। বাবার সেই স্বপ্নই তাঁকে জজ অথবা শিক্ষক হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রথমবার বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একই বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনাকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি করেছে।



