ব্যস্ত জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ক্লান্তি যেন নিত্যসঙ্গী। নিজের যত্ন নিতে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধ্যান, ব্যায়াম কিংবা বিভিন্ন অনুশীলনের প্রয়োজন মনে করেন। তবে মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতে সব সময় দীর্ঘ সময় ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। মাত্র কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের কিছু সহজ অনুশীলনও দৈনন্দিন চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ছোট অনুশীলনকে ‘মাইক্রোপ্র্যাকটিস’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবিসির ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসির অনুশীলন, মাইক্রো যোগ, ধীর ও গভীর শ্বাস নেওয়া এবং নিজেকে আলতোভাবে স্পর্শ করে শান্ত করার মতো ছোট ছোট চর্চা মানসিক স্বস্তি পেতে সহায়তা করতে পারে। ‘লাফটার যোগ’ বা হাসির অনুশীলনে কোনো কৌতুক ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে হাসার চেষ্টা করা হয়। শুরুতে এটি কিছুটা কৃত্রিম মনে হলেও ধীরে ধীরে তা স্বাভাবিক হাসিতে পরিণত হতে পারে। কিছু গবেষণায় এমন অনুশীলন উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
হাসির অনুশীলন করতে প্রথমে তিনবার গভীর শ্বাস নেওয়া যায়। এরপর ‘হি হি হি’ বা ‘হা হা হা’ বলে ধীরে ধীরে হাসির শব্দ বাড়ানো যায়। শেষে আবার গভীর শ্বাস নিয়ে কৃতজ্ঞতার কোনো বিষয় মনে করা যেতে পারে। কাছের কাউকে সঙ্গে নিয়ে করলে অনুশীলনটি আরও আনন্দদায়ক হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসে থাকলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে চাপ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কাজের ফাঁকে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের হালকা স্ট্রেচিং বা মাইক্রো যোগ শরীরকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। দুই হাত পেছনে নিয়ে আঙুল জড়িয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় হাত নিচের দিকে টেনে বুক সামান্য উঁচু করা যায়। এরপর শ্বাস ছাড়ার সময় শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনে এভাবে দুই-তিনবার ধীরে শ্বাস নেওয়া যেতে পারে।
মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় ধীর ও গভীর শ্বাস নেওয়াও শরীর ও মনকে শান্ত করতে সহায়ক হতে পারে। আরাম করে বসে চোখ বন্ধ করে ধীরে শ্বাস নেওয়া এবং তার চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ সময় নিয়ে শ্বাস ছাড়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। কয়েকবার এমনভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মনোযোগ ও শিথিলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আরেকটি সহজ উপায় হলো বুক বা বাহুতে আলতোভাবে হাত রাখা। এ সময় হাতের উষ্ণতা ও চাপ অনুভব করে নিজের প্রতি ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল কথাও মনে মনে বলা যায়। কিছু গবেষণায় এ ধরনের স্ব-সহানুভূতিমূলক স্পর্শের সম্ভাব্য স্ট্রেস-হ্রাসকারী প্রভাবের কথা উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবগুলো অনুশীলন একসঙ্গে করার প্রয়োজন নেই। নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই একটি বা দুটি অনুশীলন বেছে নিয়ে নিয়মিত চর্চা করাই গুরুত্বপূর্ণ। কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ হাঁটা, ধীরে শ্বাস নেওয়া কিংবা সচেতনভাবে নিজের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার মতো ছোট বিরতিও দৈনন্দিন মানসিক সুস্থতায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বিবিসি



