ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটছে মুমিনুল হকের। পরপর চার ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলে প্রমাণ করলেন তাকে কেন সত্যিকারের টেস্ট ক্রিকেটার বলা হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টেও অর্ধশতক পেরিয়ে নব্বইয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তীরে এসে তরী ডুবল—কাঁটা পড়লেন নড়বড়ে ৯১ রানে। তবে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও দেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটারের তেমন আক্ষেপ নেই। বরং আছে স্ত্রীর গালি খাওয়ার ভয়।
প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেন, ‘না আক্ষেপ হয়নি। এত দিন হয়নি। আজ একটু হয়েছে। তাও বউয়ের কারণে। বউ হয়তো একটু গালি দিবে। এটাই আরকি।’ তবে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার পর কিছুক্ষণ মন খারাপ হয়েছিল তাঁর—স্বীকার করে বলেন, ‘আসার পর দুই-তিন মিনিট একটু খারাপ লাগছিল আরকি। একশর চেয়ে আমার কাছে নিয়মিত রান করা বেশি ইম্পরট্যান্ট, সিরিয়াসলি বলতে গেলে।’
কেন বারবার বড় ইনিংস খেলার পরও সেঞ্চুরি ধরা দিচ্ছে না, সেই কারণ খুঁজছেন সাবেক এই অধিনায়ক নিজেও। তাঁর ধারণা, ‘মানসিক হতে পারে। এখনও ধরতে পারিনি। ইনশাআল্লাহ ধরে ফেলব। আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি, একশ করব এই চিন্তাই করি না। হয়ত আরেকটু চিন্তা করতে হবে। আমি ভাবি চার-পাঁচ সেশন ব্যাট করতে হবে। ওটাই এভাবে ভাবতে হবে—৪-৫ সেশন ব্যাট করলে একশ-দেড়শ হয়ে যাবে।’
সেঞ্চুরি না করলে আক্ষেপ নেই, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেঞ্চুরি কে না চায়? মোটিভেশন শুনতে তো ভালো লাগে না। আমি এত বছর টেস্ট খেলেছি। যেহেতু ব্যাটিং উপভোগ করি, এটাই চেষ্টা করছি। খুব বেশি চিন্তাভাবনা না করে। রান কীভাবে করতে হয় মোটামুটি জানা আছে। সেভাবেই খেলার চেষ্টা করি।’ ২০১৮ সালের পর থেকে মুমিনুলের পরিচয় শুধুই টেস্ট ক্রিকেটার—ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনি দর্শক। সেই জায়গা থেকে নিজেকে উজ্জীবিত রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। টেস্টের দ্বিতীয় দিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাল সকালটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সকালে যদি এক ঘণ্টা আমরা উইকেট না হারিয়ে খেলতে পারি, তবে আমার মনে হয় ৪০০-৪৫০ পার হয়ে যাবে।’



