ভারতের বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজির মামলায় সাক্ষী হিসেবে দিল্লির আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। মামলার মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন নোরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আদালতে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় ভারতে অবস্থানের কারণও ব্যাখ্যা করেন নোরা। তিনি জানান, টি-সিরিজের সঙ্গে কাজের জন্য ভিসা নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। এ সময় চেন্নাই সফর এবং সুকেশের স্ত্রী লীনা পলসের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়েও আদালতকে তথ্য দেন তিনি।
এর আগে নোরাকে দুইবার আদালতে তলব করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে তার আইনজীবী হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারক। সাক্ষী হিসেবে নোরার আদালতে উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনা অবহেলা না করার বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।
সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোর্টিস হেলথকেয়ারের কর্ণধার শিবিন্দর মোহন সিংয়ের স্ত্রী অদিতির কাছ থেকে তার স্বামীর জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এই অর্থ হাতিয়ে নেন সুকেশ ও তার সহযোগীরা।
সুকেশ ও তার স্ত্রী লীনা পলসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে নোরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। পরে মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, নোরা ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজসহ বলিউডের কয়েকজন অভিনেত্রীকে দামি উপহার দিয়েছিলেন সুকেশ। ২০২২ সালে নোরাকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।
নোরা ফাতেহির পারিবারিক শিকড় মরক্কোয় হলেও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কানাডায়। কানাডার কুইবেক প্রদেশের মন্ট্রিয়লে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী কানাডার নাগরিক। সেখানেই তার পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা। তবে পেশাগত কাজের সূত্রে বর্তমানে ওয়ার্কিং ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন তিনি।



