অপরিশোধিত তেল বা পেট্রোলিয়াম বর্তমান বিশ্বের অন্যতম চালিকাশক্তি। অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসরের সঙ্গে এই ‘ব্ল্যাক গোল্ড’-এর একটি মিথগত সম্পর্ক প্রচলিত আছে। ল্যাটিন ‘পেত্রা’ (পাথর) ও ‘ওলিয়াম’ (তেল) শব্দদ্বয় থেকে উদ্ভূত পেট্রোলিয়াম মূলত হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ যা লাখ লাখ বছর ধরে রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তরল রূপ নিয়েছে।
প্রচলিত ধারণা অনেকেরই, অপরিশোধিত তেলের মূল উপাদান ডাইনোসরের মৃতদেহ। কারণ আধুনিক তেল মজুদের প্রায় ৭০ শতাংশ গঠিত হয়েছে মেসোজোয়িক যুগে—২৫ কোটি ২০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে। ট্রায়াসিক, জুরাসিক ও ক্রিটেসিয়াসে বিভক্ত এই সময়কাল সরীসৃপের যুগ নামে পরিচিত, যেখানে ডাইনোসরদের বিস্তার ছিল চরম পর্যায়ে। তাই তেলের উৎপত্তি সময়কাল ও ডাইনোসরের যুগ প্রায় একই হওয়ায় এ ধারণার জন্ম।
তবে বিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলে। ভূ-গর্ভস্থ তেলের মূল উৎস আসলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র শৈবাল ও প্ল্যাঙ্কটন। সমুদ্র ও হ্রদের তলদেশে জমে থাকা এসব অতি ক্ষুদ্র প্রাণী ও উদ্ভিদ পচনের মধ্য দিয়ে কালক্রমে সৃষ্টি করে কেরোজেন। পরে তাপ ও চাপের প্রভাবে তা হাইড্রোকার্বন চেইনে রূপ নেয়। পাশাপাশি প্রাচীন বনাঞ্চলের জৈব পদার্থ থেকেও খনিজ তেলের সৃষ্টি হতে পারে।
তবে ডাইনোসরদের ভূমিকা পুরোপুরি উড়িয়েও দেওয়া যায় না। তাদের দেহের জৈব উপাদানের কিছু অংশ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আজকের খনিজ তেলের অতি ক্ষুদ্র অংশ তৈরি করেছে। কিন্তু বিশাল আকারের তেলভাণ্ডারের মূল বা প্রাচীন উপাদান হিসেবে ডাইনোসরকে দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। বরং ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদই এই শক্তির উৎসের প্রধান কারিগর।



