বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে শিকলে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে ‘বাহাদুর’ নামের ৩৮ বছর বয়সী একটি হাতি। বিশাল ও শক্তিশালী এই প্রাণীকে টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারী কাঠের গুঁড়ি টানার কঠিন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থে একটি বন্য প্রাণীকে কীভাবে বছরের পর বছর শোষণের শিকার হতে হয়, বাহাদুরের করুণ জীবন কাহিনী তারই এক নির্মম বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ের উঁচু-নিচু ও কঠিন পথ ধরে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হয় এই হাতিটিকে। অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর তাকে যে সামান্য বিশ্রাম দেওয়া হয়, সেখানেও জোটে না ন্যূনতম স্বাধীনতা। পায়ে ভারী শিকল বাঁධා অবস্থাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় লতাপাতা বা ঘাস খাওয়ার জন্য। বিশাল শরীরের চাহিদানুযায়ী উপযুক্ত পুষ্টিকর খাবার কিংবা শারীরিক অসুস্থতায় কোনোপ্রকার সুচিকিৎসা ও যত্ন তাকে দেওয়া হয় না।
দীর্ঘমেয়াদী এই নির্মম বন্দিদশা এবং অতিরিক্ত দৈহিক পরিশ্রমের ফলে বাহাদুরের শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা জটিলতা। শারীরিক ক্ষতের পাশাপাশি টানা দুই দশক ধরে শিকলে বাঁধা থাকার কারণে হাতিটি চরম মানসিক ট্রমায় ভুগছে।
একটি বন্য ও স্বাধীন প্রাণীর ওপর এমন অব্যাহত নির্যাতন এবং পর্যাপ্ত যত্ন ছাড়াই কেবল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তাকে খাটানোর ঘটনা প্রাণী অধিকার রক্ষা ও সংরক্ষণের নীতিকে চরমভাবে লঙ্ঘন করে। পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলে এমন অনেক প্রাণীই আড়ালে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বাহাদুরের মতো নিরীহ ও নিঃসঙ্গ প্রাণীকে এই শিকলের অভিশাপ থেকে অবিলম্বে মুক্ত করে অভয়ারণ্যে বা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।



