বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাই ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের প্রবণতার মধ্যে এবার ফ্রান্সে কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান মেটা। এ উদ্যোগের আওতায় চাকরি ছেড়ে দিতে আগ্রহী কর্মীদের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে একই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মাইক্রোসফট ও গুগল।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লা লেত্রে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সে মেটার প্রায় ৩০০ কর্মী রয়েছেন। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন চাকরি ছাড়তে পারেন। তবে কোন কোন বিভাগের বা পদের কর্মীরা এ সুযোগ পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। যৌথ চুক্তির ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার এ প্রক্রিয়া নিয়ে গত জুলাই থেকে আলোচনা চলছে।
মেটার প্রস্তাব অনুযায়ী, চাকরির প্রতি বছরের জন্য কর্মীরা আড়াই মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন। পাশাপাশি তাঁদের ১০ মাসের জন্য বিশেষ ছুটি দেওয়া হবে। এ সময়ে মোট বেতনের ৮০ শতাংশ পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া চাকরি ছাড়ার পর পেশাগত পুনর্বাসন কিংবা নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রেও কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এটি বর্তমান সময়ের অন্যতম উদার ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম ক্যানভা ছাঁটাই হওয়া ১ হাজার ২৭০ জন কর্মীর জন্য ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর আওতায় কর্মীদের বিনা মূল্যে ম্যাকবুক ও লিংকডইন প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীসংখ্যা ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করছে। এর অংশ হিসেবে গুগল ফ্রান্সসহ পাঁচটি দেশের কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, মাইক্রোসফট যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত ও যুক্তরাজ্যের প্রায় ৬০ হাজার যোগ্য কর্মীর জন্য বাইআউট কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
মেটার সাম্প্রতিক উদ্যোগের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বৃহত্তর কর্মী পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা। গত এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী মোট কর্মীর ১০ শতাংশ বা প্রায় ৮ হাজার পদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর মে মাসে প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে এআই-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেয়। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এর আগে জানিয়েছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এখন এমন কিছু প্রকল্প একজন কর্মীর পক্ষেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যেগুলোর জন্য আগে বড় দলের প্রয়োজন হতো।
প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সম্প্রসারণেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। ২০২৬ সালে ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে ১৩৫ বিলিয়ন থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার মূলধনী ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ‘মিউজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে মেটা। সব মিলিয়ে এআইনির্ভর প্রযুক্তির সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মীসংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে



