২০২০ সালের এক দুর্ঘটনায় হাঁটার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন পাবনার তরুণী স্বর্ণা খাতুন। কিন্তু হুইলচেয়ারকে নিজের জীবনের সীমা হতে দেননি তিনি। প্রতিকূলতাকে জয় করে নতুন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগিয়ে চলেছেন এই সাহসী তরুণী।
কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা স্বর্ণা ক্রিপলড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার (CRP) থেকে মেডিকেল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সনদ অর্জন করেন। বর্তমানে CRP-এর প্যাথলজি বিভাগে হুইলচেয়ারে বসেই দক্ষতার সঙ্গে রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের কাজ করছেন তিনি।
প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর সেবা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই মানুষের সক্ষমতার শেষ কথা নয়। তাঁর কর্মদক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস আশপাশের মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
চাকরির ক্ষেত্রেও স্বর্ণাকে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অর্জন করেও শুধু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রবেশগম্যতার সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে যোগ দিতে পারেননি তিনি।
এখন তাঁর লক্ষ্য একটি স্থায়ী চাকরি পাওয়া। নিজের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি স্বনির্ভর ও স্বাধীন জীবন গড়তে চান স্বর্ণা। তাঁর গল্প শুধু প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নয়, বরং ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প।
স্বর্ণার মতো মানুষের জন্য কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ এবং প্রবেশগম্য পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ সুযোগ পেলে তাঁরাই প্রমাণ করতে পারেন, হুইলচেয়ার কোনো মানুষের স্বপ্নের পথে বাধা নয়।



