সুবিধাবঞ্চিত, গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে স্মার্টফোন আরও সহজলভ্য করতে এবং অধিকসংখ্যক মানুষকে ডিজিটাল ও আর্থিক সেবার আওতায় আনতে বিশেষ একটি পাইলট কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক আ ন ম মইনুল কবীরের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের অধীনে এ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডকে আনুষ্ঠানিক অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের যে বাধা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তৈরি হয়, তা কমিয়ে আনা। এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেন এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি ডিজিটাল সেবা, কৃষি ও বাজারের তথ্য, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার বিভিন্ন কার্যক্রম স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই পরিচালনা করা সম্ভব। তবে মানসম্মত স্মার্টফোনের তুলনামূলক বেশি দাম এখনো গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের জন্য বাধা হয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এই পাইলট কর্মসূচিতে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা বাড়াতে একটি নিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীল মডেল নিয়ে কাজ করা হবে। স্মার্টফোন কেনার প্রাথমিক আর্থিক বাধা কমানোর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অনলাইন সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়াই এর অন্যতম লক্ষ্য।
এ বিষয়ে সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নায়েম ফয়েজ বলেন, বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন শুধু একটি প্রযুক্তি যন্ত্র নয়; এটি আর্থিক সেবা, তথ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ যেন এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পাইলট প্রকল্পটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবু আল মোতালিব বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল তখনই পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া সম্ভব, যখন বড় শহরের বাইরে থাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যরাও সহজে ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারবেন। তাদের নাগালের মধ্যে একটি উপযুক্ত স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়া মানে ব্যাংকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, শিক্ষা, তথ্য, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার সুযোগও তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত নীতি ও শর্তের অধীনে পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ কর্মসূচিটি পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি প্রকল্পের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নিয়মিত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, দায়িত্বশীল স্মার্টফোন অর্থায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।



