সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই গ্যাস সংকটের ফলে ইতোমধ্যে দেশের অর্ধেকেরও বেশি টেক্সটাইল বা সুতা উৎপাদনকারী মিল তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। একইসাথে তৈরি পোশাক (আরএমজি), ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিক খাতের কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কমে অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর সাম্প্রতিক আশ্বাসের পর নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জের শিল্পোদ্যোক্তারা পরিস্থিতির উন্নতির আশা করলেও বাস্তবচিত্র ভিন্ন। অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ কাঙ্ক্ষিত ১৫ পিএসআই (PSI)-এর বদলে প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে, যার ফলে প্রতিদিন কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন মালিকেরা। সংকট অব্যাহত থাকায় জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল এবং শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংকটের গভীরতা ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় তাঁতশিল্পেও; নরসিংদীর মাধবদীতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে উৎপাদন-ভিত্তিক মজুরিতে কাজ করা শ্রমিকদের মহাসড়কে নেমে আসার খবর পাওয়া গেছে। ফতুল্লা ও আড়াইহাজারের মতো প্রধান শিল্পাঞ্চলের উদ্যোক্তারা জানান, একের পর এক ডেডলাইন পার হলেও সংকট সমাধানের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পাওয়া যাচ্ছে না। ধারাবাহিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের সামগ্রিক রফতানি খাত ও শিল্প অর্থনীতি এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে।



