শুধু শারীরিক সুস্থতা নয়, শরীরে ভিটামিনের অভাব মানসিক অসুস্থতারও বড় একটি কারণ হতে পারে। প্রায়ই যদি ‘মুড অফ’ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, মানসিক অস্থিরতা অনুভব করেন, অকারণ উদ্বেগ বা বিষণ্নতা আপনাকে ঘিরে ধরে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি থাকতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজকাল ইনের প্রতিবেদন অনুসারে, কোন কাজে সহজে মনোযোগ দিতে না পারা ও ঘন ঘন মেজাজ হারিয়ে ফেলার পেছনেও দায়ী বেশ কয়েকটি ভিটামিনের অভাব।
ভিটামিন ডি কে ‘সানশাইন ভিটামিন’ বলা হয়। শরীরে ভিটামিন ডির মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপে প্রভাব পড়ে, যা মানসিক অবসাদ ও মন খারাপের বড় কারণ হয়ে ওঠে।
ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী রাসায়নিক ‘সেরোটোনিন’ উৎপাদনে সাহায্য করে। এর অভাব হলে ক্লান্তি, অকারণ ভয় ও বিষণ্ণতা দেখা দেয়।
ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে কাজ করে। এর ঘাটতিতে মন খিটখিটে হয়, মুহূর্তে মুহূর্তে মেজাজ পরিবর্তন হয় এবং মানসিক অবসাদ তৈরি করে।
ভিটামিন বি৯ (ফোলেট) মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও ডোপামিন তৈরি করে, যা মন ভালো রাখে। এর অভাবে মানসিক অবসাদ, সারাক্ষণ মন খারাপ, ক্লান্তি ও অতিরিক্ত উদ্বেগ দেখা দেয়।
ম্যাগনেশিয়াম পেশিকে শিথিল করতে এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। এর অভাব থাকলে অনিদ্রা, বিরক্তি ও প্যানিক অ্যাটাকের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা কখনো কখনো স্মৃতিশক্তি নষ্টের কারণও হয়।
আয়রনের অভাবে রক্তাল্পতা দেখা দেয় এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব মনের ওপর পড়ে, যা তৈরি করে সারাক্ষণ ক্লান্তি, উৎসাহ হারানো ও অকারণ খিটখিটে ভাব।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের গঠন ও কাজ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, স্নায়ুর প্রদাহ কমায় এবং মন প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। শরীরে এর অভাব হলে স্নায়ুর প্রদাহ বেড়ে যায়, যা মন খারাপের কারণ হয়ে ওঠে।



