বর্তমান যান্ত্রিক জীবনে আমরা সবাই যেন এক অদৃশ্য ইঁদুরদৌড়ে অংশ নিচ্ছি। আর এই একটানা মানসিক চাপের কারণে আমাদের শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোন বেড়ে গিয়ে দেখা দিচ্ছে উদ্বেগ, অনিদ্রা ও উচ্চ রক্তচাপের মতো নানা জটিল সমস্যা । তবে এই অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে এবং স্নায়ুকে শান্ত রাখতে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হিমেল বিশ্বাস ৫টি চমৎকার ও সহজ অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন । চলুন জেনে নিই সেই জাদুকরী উপায়গুলো:
১. শ্বাসের জাদুকরী ব্যায়াম: যখনই খুব চাপ অনুভব করবেন, তখন ‘৪-৭-৮’ নামের শ্বাসপ্রশ্বাসের পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন । এর নিয়ম হলো— ৪ সেকেন্ড নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া, ৭ সেকেন্ড তা আটকে রাখা এবং এরপর ৮ সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়া । এটি মস্তিষ্ককে খুব দ্রুত শান্ত হওয়ার সংকেত পাঠায় ।
২. খাবারের তালিকায় জাদুকরী উপাদান: স্নায়ু শান্ত রাখতে কাঠবাদাম, পালংশাক, কলা ও ডার্ক চকলেট দারুণ কাজ করে [৪]। কারণ এসব খাবারে থাকা ম্যাগনেশিয়ামকে বলা হয় ‘প্রাকৃতিক প্রশান্তিদায়ক’ উপাদান, যা স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমিয়ে আনে ।
৩. ডিজিটাল ডিটক্স ও প্রশান্তির ঘুম: স্মার্টফোন বা যেকোনো স্ক্রিনের নীল আলো আমাদের স্নায়ুকে সারাক্ষণ উত্তেজিত রাখে । তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল যন্ত্র থেকে দূরে থাকতে হবে এবং অন্ধকার ও শান্ত পরিবেশে ঘুমাতে হবে ।
৪. প্রকৃতির সান্নিধ্য: সারাদিন ঘরের ভেতর বা এসির নিচে বসে না থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট খোলা বাতাসে বা সবুজ প্রকৃতির মাঝে হাঁটাহাঁটি করলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায় । পাশাপাশি নিয়মিত যোগব্যায়াম বা হালকা গরম পানিতে গোসলও শরীর ও মনকে সতেজ রাখে ।
৫. চা, কফি ও চিনিতে লাগাম: কাজের চাপে অনেকেই অতিরিক্ত চা বা কফি পান করেন। এগুলো সাময়িকভাবে উত্তেজনা বাড়ালেও দিন শেষে তা ক্লান্তি ও অস্থিরতাই তৈরি করে । তাই এর বদলে ভেষজ চা বা সাধারণ পরিষ্কার পানি পানের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত ।
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের ব্যস্ততার ফাঁকে এই ছোট ছোট কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অভ্যাসগুলোই আমাদের জীবনকে করে তুলতে পারে অনেক বেশি শান্ত, সুস্থ ও প্রাণবন্ত !



