ভূমধ্যসাগরে মাইলজুড়ে অণুশৈবালের (Microalgae) অস্বাভাবিক বিস্তারের কারণে ইসরায়েলের সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশের উপকূলে অবস্থিত ছয়টি প্রধান পানি শোধনাগারের মধ্যে পাঁচটিতেই সাময়িক উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলের জাতীয় পানি সরবরাহকারী কোম্পানি ‘মেকোরোট’ (Mekorot) জানিয়েছে, ফিল্টারিং সিস্টেমে স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে এবং ঘোলা পানি প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি প্ল্যান্ট আংশিক চালু করা হলেও, একটিমাত্র শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় সচল থাকতে পেরেছে। মেকোরোটের মুখপাত্র লিয়র গুটম্যান এই ঘটনাকে অত্যন্ত বিরল ও নজিরবিহীন আখ্যা দিয়েছেন
ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত কারণে অত্যন্ত শুষ্ক এই দেশটির স্থায়ী কোনো বড় নদী বা পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের সুযোগ নেই। ফলে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সুপেয় পানির অন্তত ৬৫ শতাংশই আসে সমুদ্রের লোনা পানি শোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর বিকল্প হিসেবে ভূগর্ভস্থ কূপ, জাতীয় রিজার্ভ এবং গ্যালিলি সাগর (Sea of Galilee) থেকে অতিরিক্ত পানি তুলে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের কৃষি সেচ, বাগান পরিচর্যা এবং সুইমিং পুল ব্যবহারের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গবেষকদের মতে, মিশরের নীল নদ বদ্বীপ অঞ্চল থেকে সামুদ্রিক স্রোতের মাধ্যমে ভেসে আসা অতিক্ষুদ্র এই শৈবালগুলো সূর্যালোক ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা কাজে লাগিয়ে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করেছে। শৈবালের ঘন স্তরের কারণে পানি অতিরিক্ত ঘোলা হয়ে রিভার্স অসমোসিস (Reverse Osmosis) প্রক্রিয়ার জটিল মেমব্রেন আটকে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক দূষণ এমন অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে উসকে দিচ্ছে বলে পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন। যদিও মেকোরোট নিশ্চিত করেছে যে সাধারণ গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য পানির বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না, তবে প্রযুক্তিনির্ভর পানি নিরাপত্তার ওপর এমন ঝুঁকি নীতি নির্ধারকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।



