চিকিৎসা বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত ইন্সটিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) এক বৈশ্বিক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটি মানুষ—যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ—কোনো না কোনো ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। ১৯৯০ সালের তুলনায় এই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিগত তিন দশকে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ‘অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’ (উদ্বেগজনিত সমস্যা) এবং ‘মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার’ (গুরুতর বিষণ্নতা)। বৈশ্বিক এই মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের কারণে হৃদরোগ বা ক্যানসারের মতো শারীরিক ব্যাধিকে পেছনে ফেলে এটি এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা নষ্ট বা বিকলঙ্গতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী এবং নারীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জীবনের তীব্র মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে এই নীরব ঘাতক রোগটি বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করছে।



