বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন একটি নীতিমালার ঘোষণা দিয়েছে, যার আওতায় উচ্চশিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সাংবাদিকতার উদ্দেশ্যে দেওয়া বিভিন্ন ধরনের ভিসার মেয়াদ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হবে। এতদিন এসব ভিসাধারীরা তাদের শিক্ষা, গবেষণা বা কর্মসংস্থানের পুরো মেয়াদকাল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারলেও নতুন নিয়মে সেই সুবিধার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এফ’ (F) ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের জন্য ‘জে’ (J) ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ‘আই’ (I) ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে চার বছর। অন্যদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করে সর্বোচ্চ ২৪০ দিন করা হবে। চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ আরও কমিয়ে ৯০ দিন নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভিসাধারীরা মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।
ডিএইচএস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে ১৮ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা পেয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে পাঁচ লাখের বেশি সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং ৩৭ হাজারের বেশি বিদেশি সাংবাদিক ভিসা পেয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি অনেকেই নির্ধারিত সময়ের পরও দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, যা অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে আগ্রহীদের নিজ দেশে ফিরে নতুন করে ভিসার আবেদন করতে হবে অথবা উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমতি নিতে হবে। ফেডারেল রেজিস্ট্রারে প্রকাশের ৬০ দিন পর নীতিমালাটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাংবাদিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা করা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।



