সন্তান ধারণে ব্যর্থতা দীর্ঘদিন ধরে শুধু নারীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়ে এলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে—বন্ধ্যত্ব নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অনেক দম্পতির সন্তান না হওয়ার মূল কারণ পুরুষের বন্ধ্যত্ব। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষের বন্ধ্যত্ব প্রধানত শুক্রাণু-সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই ঘটে।
পুরুষের বন্ধ্যত্বের কারণ কী?
ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রধান পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মোসাম্মাত রাশিদা বেগম জানান, পুরুষের বন্ধ্যত্ব সাধারণত শুক্রাণুর উৎপাদন না হওয়া, পর্যাপ্ত না হওয়া, দুর্বল গঠন বা গতি, কিংবা সহবাসে অক্ষমতার কারণে শুক্রাণু নারীর দেহে পৌঁছাতে না পারার ফলে ঘটে।
অনেক সময় এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া না গেলেও আধুনিক জীবনযাপন, দূষণ, উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ, কীটনাশকযুক্ত খাবার, ভিটামিন ও জিংকের ঘাটতি এসবই শুক্রাণুর গুণগত মান ও পরিমাণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ ছাড়া ডায়াবেটিস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ যেমন অ্যান্টিহেপাটিক, অ্যান্টি-আলসারেন্ট, সালফাসালাজিন, কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
অণ্ডকোষে সংক্রমণ বা নালির ব্লকেজের কারণে শুক্রাণু তৈরি হলেও তা বীর্যে মিশতে পারে না। কেউ কেউ জন্মগতভাবেও শুক্রাণু-বাহিত নালির অভাবে বন্ধ্যত্বে ভোগেন।
শুক্রাণু বৃদ্ধিতে যা করা উচিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনধারায় পরিবর্তন আনলে পুরুষের প্রজনন সক্ষমতা অনেকাংশে উন্নত করা সম্ভব। কিছু নির্দিষ্ট খাবার শুক্রাণুর পরিমাণ ও গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক:
আনার: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে শুক্রাণুর মান উন্নত করে।
ওয়ালনাট (আখরোট): এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শুক্রাণুর গতি ও শক্তি বাড়ায়। প্রতিদিন ৭০ গ্রাম গ্রহণ করা যেতে পারে।
ব্ল্যাক চকলেট: এতে রয়েছে এল-আরজিন অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ায় এবং ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
টমেটো: এতে থাকা লাইকোপেন শুক্রাণুর গুণগত মান উন্নত করে, বিশেষত জলপাই তেলে রান্না করলে শোষণ আরও ভালো হয়।
কুমড়োর বীজ: এতে রয়েছে জিংক ও ফাইটোসটেরল, যা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়িয়ে শুক্রাণু উৎপাদন বাড়ায়।
অতিরিক্ত পরামর্শ:
ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণরূপে বর্জন করুন।
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কারণ অতিরিক্ত চর্বি টেস্টোস্টেরনকে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তর করে, যা শুক্রাণুর ক্ষতি করে।
কেমোথেরাপি বা গুরুতর চিকিৎসা গ্রহণের আগে শুক্রাণু সংরক্ষণ করা ভালো।
প্রয়োজনে আইইউআই বা টেস্টটিউব বেবির মতো আধুনিক চিকিৎসার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
আজকের দিনে পুরুষের বন্ধ্যত্ব কোনো অজানা বিষয় নয়। সচেতনতা, সময়োপযোগী চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য। তাই দেরি না করে সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।


