যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক লাখ কবরের বিশাল কবরস্থান—‘স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রি’। নিউইয়র্ক স্টেটের অরেঞ্জ কাউন্টির স্কচটাউনে ১২৬ একর জায়গাজুড়ে সম্পূর্ণ মুসলিম ধর্মীয় রীতি মেনে এই সেমিট্রি গড়ে তুলেছে ‘দি গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ’। করোনাকালে কবরের সংকট মাথায় রেখে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর ২৪০ কনর্স রোডে সম্পূর্ণ নগদ অর্থে জমি ক্রয় করা হয় এবং ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার কবরের স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ৩০টি সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সেমিট্রির কার্যক্রম শুরুর দিনে প্রথমবারের মতো সংগঠনের উপদেষ্টা মরহুম এস এম আমানতের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন কার্যক্রম শুরু হবে ১ জুলাই থেকে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে আগস্ট থেকে আরও ৪২ হাজার কবর তৈরির কাজ শুরু হবে এবং দুটি ফিউনারেল হোম প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংগঠনের সেক্রেটারি এএসএম মাইন উদ্দিন পিন্টু জানান, এই সেমিট্রি শুধু বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত।
কার্যক্রম শুরুর দিনে নিউইয়র্ক সিটি, বাফেলোসহ বিভিন্ন শহর থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও কবর ক্রেতারা সেমিট্রিতে সমবেত হন। দুপুরে জানাজা ও দাফন শেষে একটি সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের সবকিছু অনুমোদিত জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি জাহিদ মিন্টু বলেন, অন্য সেমিট্রিগুলো থেকে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং সেখানকার প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যাতে সুচারুভাবে দাফন কাজ পরিচালনা করা যায়। তিনি আরও জানান, আগামী সময়ে সেমিট্রিতে পূর্ণ ফিউনারেল হোম, অফিস ভবন, মসজিদ ও পুরুষ-নারীদের জন্য আলাদা বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হবে।
দাফন তদারকিকারী সহ-কোষাধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন জানান, ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল পার্কের আদলে এখানে দাফন কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং সব যন্ত্রপাতি ও উপকরণ প্রস্তুত রয়েছে। সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান মানিক, সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি এএসএম মাইন উদ্দিন পিন্টু। এতে বক্তব্য রাখেন সভাপতি জাহিদ মিন্টু, সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, ট্রাস্টি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, উপদেষ্টা রিয়াজুল করিম চৌধুরী, মুফতি মোহাম্মদ ইসমাইল, ডা. নুরে আলম সিদ্দিকী মুন্না, মোহাম্মদ গোলাম হোসেন, আজিমুল শেখ, মীর্জা মোহাম্মদ হোসেন, ইমতিয়াজ আহম্মেদ, কাজী হোসেন, শাহজাহান নজরুল প্রমুখ।



