কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রতিযোগিতায় চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে যুক্তরাষ্ট্রে উন্মুক্ত এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। একই সঙ্গে নতুন উন্মুক্ত ওজনের এআই মডেল ‘মিউজ গ্লিমার’ উন্মোচন করেছে মেটা।
সোমবার (১০ আগস্ট) মডেলটি উন্মোচনের পাশাপাশি জাকারবার্গ জানান, শিগগিরই আরও বড় এআই মডেল প্রকাশ করবে মেটা। নতুন ‘মিউজ গ্লিমার’ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলোর তুলনায় আকারে ছোট হলেও এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে একটি মাত্র গ্রাফিকস কার্ড ব্যবহার করে ম্যাক বা ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা যায়।
জাকারবার্গ তার ১৪ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধে এআই প্রযুক্তিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তার মতে, এআই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—তাই এর নিয়ন্ত্রণ কেবল অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত রাখাই নিরাপদ, এমন ধারণা সমস্যাজনক। তিনি মনে করেন, উন্মুক্ত এআই মডেলের মাধ্যমে প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে উন্মুক্ত ওজনের এআই মডেলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কারণ এসব মডেল সাধারণত শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক মডেলের তুলনায় কম খরচে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী এসব মডেল পরিবর্তন করে নিজেদের কাজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত ওজনের এআই মডেল তৈরিতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে রয়েছে। মুনশটের ‘কিমি কে৩’, আলিবাবার ‘কিউওয়েন ৩.৮-ম্যাক্স’ এবং ডিপসিকের ‘ভি৪-ফ্ল্যাশ’ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। অন্যদিকে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের প্রধান মডেলগুলো মূলত নিয়ন্ত্রিত বা বন্ধ কাঠামোর।
মেটা জানিয়েছে, তারা আরও উন্নত মডেল ‘মিউজ স্পার্ক ১.২’-এর ওজনও প্রকাশ করার পরিকল্পনা করছে। গত বছর এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে মেটা একটি ব্যয়বহুল বিশেষায়িত দল গঠন করেছিল। তবে ‘ল্যামা ৪’ প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই কৌশলে পরিবর্তন আনে।
এদিকে এআই অবকাঠামো তৈরিতে মেটার বিপুল বিনিয়োগ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জাকারবার্গ ১০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়াই হবে এই তহবিলের অন্যতম লক্ষ্য।
জাকারবার্গ বলেন, চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অসুবিধা হলো দেশটিতে অবকাঠামো নির্মাণ তুলনামূলকভাবে কঠিন। এআই অবকাঠামোতে চলতি বছর মেটা সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে পারে বলেও জানান তিনি।
উন্মুক্ত এআই মডেল তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে নিতে দেশটির নীতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাকারবার্গ। বিশেষ করে তথ্য ব্যবহারের নিয়ম এবং ‘ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মেটা জানিয়েছে, নতুন মডেল প্রকাশের আগে নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুমোদনের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন পরিচালকদের দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদেশি উন্মুক্ত এআই মডেলের প্রবেশাধিকার সীমিত করাকে কার্যকর সমাধান মনে করেন না জাকারবার্গ। এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখতে প্রযুক্তি উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং নীতিগত কাঠামোর সমন্বিত অগ্রগতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।



