ডিজিটাল লেনদেন সেবা চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে লাইসেন্স পেয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুঠোফোন অপারেটর বাংলালিংক। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মাধ্যমে ‘মুক্ত পে’ নামে ডিজিটাল লেনদেন সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ‘মুক্ত পে’-এর মাধ্যমে টাকা লেনদেন, মার্চেন্ট ও ই-কমার্স পেমেন্ট, ইউটিলিটি ও সরকারি বিল পরিশোধ, বেতন ও অন্যান্য অর্থ বিতরণসহ অনুমোদিত বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল লেনদেন করা যাবে। গ্রাহকদের জন্য সহজ, নিরাপদ ও সহজলভ্য ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি করাই এই সেবার অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলালিংক জানিয়েছে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর, নগদবিহীন লেনদেনের প্রসার এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ‘মুক্ত পে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা বা কম সেবাপ্রাপ্ত মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ছোট উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলালিংকের মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠান ভিওনও বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে যুক্ত হতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, ক্যাশলেস লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার পথে আরও বেশি মানুষকে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। তার মতে, ‘মুক্ত পে’ সেই লক্ষ্য পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, বাংলালিংকের দেশজুড়ে বিস্তৃত সেবার সুযোগ ও স্থানীয় গ্রাহকদের সম্পর্কে অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভিওনের আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল পেমেন্টকে মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য ও প্রাসঙ্গিক করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ক্যাশলেস ও ডিজিটালি সক্ষম বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলালিংকের ভাষ্য, ‘মুক্ত পে’ চালুর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ কোম্পানি থেকে আরও বিস্তৃত ডিজিটাল অপারেটরে রূপান্তরের পথে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ধাপ অতিক্রম করছে। সংযোগ সেবার পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনভিত্তিক ডিজিটাল ও আর্থিক সেবা দেওয়ার পরিসরও বাড়াতে চায় বাংলালিংক।



