এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) পরবর্তী সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতি দুই বছর পর এসিসির পাঁচ পূর্ণ সদস্যের মধ্যে সভাপতির দায়িত্ব পালাক্রমে পরিবর্তিত হয়। সে হিসেবে পরবর্তী মেয়াদে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল এসিসির নেতৃত্ব নিতে আগ্রহী এবং তিনি এ বিষয়ে নিজের আগ্রহের কথা সংস্থাটিকে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান এসিসি সভাপতি মোহসিন নাকভির মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। তাঁর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব উঠলে এসিসির পাঁচ পূর্ণ সদস্যের অন্তত তিনটি, এমনকি চারটি সদস্যও এর বিরোধিতা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য এর আগে মেয়াদ বাড়ানোর নজির রয়েছে। ২০২৪ সালে জয় শাহ তৃতীয় বছরও এসিসির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে সে ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য ছিল।
এসিসির এক সদস্যের বরাত দিয়ে ক্রিকবাজ জানিয়েছে, এসিসি সভাপতির মেয়াদ দুই বছর এবং পূর্ণ সদস্যদের মধ্যে পালাক্রমে দায়িত্ব বণ্টনের নিয়ম রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাহী বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নাকভির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সেই ঐকমত্য নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
নাকভির বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এসিসির সামনে আরেকটি আলোচিত বিষয় আসতে পারে—ট্রফি তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। ভারত টুর্নামেন্টটির বর্তমান দুইবারের চ্যাম্পিয়ন। সম্প্রতি এশিয়া কাপের ট্রফি বিতরণ নিয়ে নাকভিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় নারী দলও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করেনি।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ট্রফি বিতরণ ঘিরে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, সেটিও নজরে থাকবে। তবে তার আগে মূল বিষয় হলো—মোহসিন নাকভির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এসিসির পরবর্তী সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ দায়িত্ব নেয় কি না এবং সে ক্ষেত্রে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালিত হয় কি না।



