উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন সব শিক্ষার্থীরই থাকে। কিন্তু টাকার অভাবে যদি সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন কেমন লাগে? ২০০৫ সালের এমনই এক হতাশাজনক মুহূর্তে ছেলের স্বপ্ন বাঁচাতে এক মায়ের অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগের গল্প সম্প্রতি সামনে এসেছে।
এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিকে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী সাধন সরকার। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে কোচিং করার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। নিজে টিউশনি করে জমানো অল্প টাকায় কেবল ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান তিনি। মেধার জোরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগও পেয়ে যান! কিন্তু ভর্তির জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৭ হাজার টাকা। চারপাশের আত্মীয়স্বজনের কাছে সাহায্য চেয়েও খালি হাতে ফিরতে হয় তাঁদের পরিবারকে। এমনকি কেউ কেউ সাহায্য তো করেইনি, উল্টো কটূক্তি করতেও ছাড়েননি!
হতাশ হয়ে সাধন যখন স্থানীয় কোনো কলেজে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের স্বপ্নকে বিদায় জানাতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই বাস্তব গল্পে আসে দারুণ এক মোড়। ভর্তির শেষ সময়ের ঠিক এক দিন আগে বিষণ্ণ ছেলের সামনে হাসিমুখে এগিয়ে এসে মা বলেন, ‘এই নে তোর টাকা!’
মায়ের হাতে এত টাকা দেখে অবাক হয়েছিলেন ছেলে। পরে জানা যায়, ছেলের স্বপ্ন পূরণের জন্য এই অদম্য মা নিজেদের বাড়ির আঙিনায় থাকা ছোট ছোট গাছগুলো নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, এই ৭ হাজার টাকা মেলাতে তিনি ধার করেছিলেন প্রায় ১৭ জন মানুষের কাছ থেকে!
সেদিন ওই মায়ের নীরব আত্মত্যাগের কারণেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিলেন সাধন। দারিদ্র্য আর চারপাশের মানুষের অবহেলাকে জয় করে সন্তানের প্রতি এক মায়ের এমন নিখাদ ভালোবাসা আর হার না মানা জীবনসংগ্রাম সত্যিই আজ হাজারো মানুষের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।



