আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা দেখিয়ে ম্যাচ ড্র করেছে আফগানিস্তান। চতুর্থ ইনিংসে আফগান ব্যাটারদের অলআউট করতে বাংলাদেশকে টানা ১৪২ ওভার বোলিং করতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে থামাতে পারেনি বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের এই লড়াকু প্রত্যাবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছেন সেদিকউল্লাহ আতাল, যিনি আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পরিচিতি পেছনে ফেলে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে আতাল খেলেছেন ৩৩২ বলের মোকাবিলায় ১১১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ক্রিজে কাটিয়েছেন ৮ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট। সময়ের হিসাবে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এটি রেকর্ড করা সপ্তম দীর্ঘতম ইনিংস। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের হয়ে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এটিই প্রথম সেঞ্চুরি এবং দেশটির টেস্ট ইতিহাসে দৈর্ঘ্যের বিচারে তৃতীয় দীর্ঘতম ইনিংস। তাঁর এই অসাধারণ প্রতিরোধেই শেষ পর্যন্ত হার এড়ায় আফগানিস্তান।
ম্যাচ ড্র হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেন, “হতাশাজনক তো বটেই। তবে আফগানিস্তান দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।” বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি জানালেও স্পিনারদের কাছ থেকে আরও কার্যকর অবদান আশা করেছিলেন বলে জানান তিনি। শান্তর মতে, স্পিনাররা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু আফগানিস্তান সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সিরিজের জন্য দলের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ম্যাচসেরা লিটন দাসের প্রশংসা করে শান্ত বলেন, শুধু এই ম্যাচেই নয়, গত কয়েক বছর ধরেই লিটন ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছেন। উইকেটের পেছনেও তাঁর পারফরম্যান্স দুর্দান্ত বলে উল্লেখ করেন অধিনায়ক। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা প্রায় ১৪০ ওভার উইকেটকিপিং করাকে কঠিন কাজ হিসেবে উল্লেখ করে শান্ত বলেন, এতে লিটনের মানসিক দৃঢ়তা ও চারিত্রিক শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, লিটন ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই ক্ষেত্রেই নিজের ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখবেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন শান্ত। তিনি বলেন, হাসানের হাতে বল তুলে দিলেই তিনি দলের জন্য নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। ইবাদত, তাসকিন ও রানাও একইভাবে অবদান রাখছেন। ভবিষ্যতেও তাঁরা গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে আশা করেন অধিনায়ক।
অন্যদিকে, ম্যাচটি কঠিন হওয়ার পেছনে প্রচণ্ড গরমকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ম্যাচসেরা লিটন দাস। তিনি বলেন, এমন আবহাওয়ায় টানা পাঁচ দিন খেলা শারীরিকভাবে বেশ কষ্টকর ছিল। এ পরিস্থিতিতে নিজের শক্তি ও সামর্থ্য ধরে রাখার দিকেই মনোযোগ দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ম্যাচটি জিততে চেয়েছিল, তবে ক্রিকেটে কখনো কখনো এমন ফল মেনে নিতে হয় বলেও মন্তব্য করেন লিটন।
দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের হয়ে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন লিটন। কীভাবে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি জানান, নেটে এক সেশন অনুশীলনের পরই নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে শুরু করেন। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল উল্লেখ করে লিটন বলেন, প্রথম ইনিংসে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার লক্ষ্য নিয়েই ব্যাট করতে নেমেছিলেন।



