ঢাকার বাড়িধারায় সম্প্রতি ঘটেছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, যেখানে দ্রুতগামী গাড়ির চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন মেহেদী হাসান মিমি নামের এক নির্মাণ শ্রমিক। এই ঘটনায় জড়িত গাড়িটি চালাচ্ছিল মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোর আজান আলী শরীফ। সিিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে আদালত তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ও দুঃখজনক বিষয় হলো, বিচার প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার আগেই মাত্র ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে অভিযুক্ত পক্ষের সাথে আপস করেছে নিহত মিমের পরিবার। এই ঘটনা আবারও আমাদের সমাজ ও বিচার ব্যবস্থার সামর্থ্য নিয়ে এক বিরাট প্রশ্ন তুলে ধরেছে—একজন খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের মূল্য কি তবে মাত্র কয়েক লাখ টাকা?
আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে নির্দোষ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। এরপর যদি টাকার বিনিময়ে বা প্রভাবের জোরে অপরাধীরা আইনি জবাবদিহিতা থেকে পার পেয়ে যায়, তবে তা আইনের শাসন ও সামাজিক মূল্যবোধকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার চেয়ে যখন আর্থিক আপস প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়ে। এই ধরণের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে টাকার জোরে কোনো অপরাধ ঢাকা না পড়ে।



