ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের দেজগাহ গ্রামে বাস করতেন আমু হাজি, যাকে বিশ্বজুড়ে ‘বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাবান ও পানি থেকে দূরে ছিলেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, গোসল করলেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। জীবনের শুরুতে পাওয়া কিছু মানসিক আঘাতের কারণেই তিনি এমন অস্বাভাবিক জীবনধারা বেছে নিয়েছিলেন। আধুনিক জীবনের সকল বিলাসিতা বর্জন করে তিনি কখনো মাটির গর্তে, আবার কখনো গ্রামবাসীদের তৈরি ইটের ঝুপড়িতে দিনাতিপাত করতেন। পচা মাংস এবং তেলের ক্যান থেকে নেওয়া অপরিষ্কার পানিই ছিল তাঁর জীবনধারণের অবলম্বন।
অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় নোংরা জীবনযাপনে অভ্যস্ত আমু হাজির শেষ পরিণতি ছিল বেশ করুণ। ২০২২ সালে গ্রামবাসীদের ক্রমাগত চাপে তিনি দীর্ঘ কয়েক দশক পর প্রথমবারের মতো গোসল করতে রাজি হন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, গোসলের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় ৯৪ বছর বয়সে তিনি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই মৃত্যু অনেকের মনে এই প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে যে, দীর্ঘদিনের অভ্যাস ভেঙে হঠাৎ জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তনই কি তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল? আমু হাজির ধূমপানের প্রতি ছিল চরম আসক্তি; কখনো কখনো তাঁকে একসঙ্গে একাধিক সিগারেট টানতে দেখা যেত। তাঁর অদ্ভুত জীবনযাপন ও মৃত্যু সংবাদ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।



