ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইএফএবি (IFAB)। সংস্থাটি এমন এক প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যার বাস্তবায়ন হলে পেনাল্টি শট মিসের পর আর ফিরতি শটে গোল করার সুযোগ থাকবে না। যদি গোলরক্ষক পেনাল্টি ঠেকান বা শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, তাহলে খেলা শুরু হবে সরাসরি গোলকিক দিয়ে—ফলে ‘রিবাউন্ড’ থেকে গোলের পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানায়, এ নিয়ম কার্যকর হলে ফুটবলের ১৩৪ বছরের পুরনো ঐতিহ্যে বড়সড় ছেদ পড়বে। কারণ এতদিন পর্যন্ত পেনাল্টির পর বল যদি মাঠে থাকত, তাহলে তা নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া যেত এবং সেখান থেকেও গোল করার সুযোগ থাকত।
আইএফএবির যুক্তি, পেনাল্টি এমনিতেই একটি দলকে বিশাল সুবিধা দেয়, যা সাধারণত ফাউলের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। এরপর যদি আবার বল রিবাউন্ড থেকে নিয়ে গোল করার সুযোগ থাকে, তবে তা প্রতিপক্ষের প্রতি অন্যায় এবং ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।
এছাড়া, নতুন নিয়ম চালু হলে বারবার আলোচিত “ইনক্রোচমেন্ট” বা পেনাল্টি বক্সে আগেভাগে ঢুকে পড়ার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েও আর ঝামেলা থাকবে না।
ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান এবং কিংবদন্তি ইতালিয়ান রেফারি পিয়ারলুইজি কলিনা এ বছরের শুরুতেই এই নিয়ম পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন। তার ভাষায়, “পেনাল্টি নিজেই প্রায় ৭৫% সফল হয়। তারপরও যদি রিবাউন্ড থেকে সুযোগ দেওয়া হয়, সেটা সত্যিই বাড়াবাড়ি।”
এই প্রস্তাব নিয়ে আইএফএবির চূড়ান্ত আলোচনা হবে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে কি না।
প্রসঙ্গত, পেনাল্টি সংক্রান্ত আরও একটি নিয়ম ইতোমধ্যেই পরিবর্তন হয়েছে। সম্প্রতি জুলিয়ান আলভারেজের বিতর্কিত ‘ডাবল টাচ’ পেনাল্টি গোলের ঘটনায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী—যদি কেউ দুই পায়ে একসঙ্গে পেনাল্টি কিকে বল স্পর্শ করে, তাহলে গোল হলেও সেটি বাতিল হবে এবং বল আবার পেনাল্টি থেকে নেওয়া যাবে না। তবে মিস করলে প্রতিপক্ষ দল পাবে ইন্ডাইরেক্ট ফ্রি কিক।
সব মিলিয়ে, ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটিকে ঘিরে বড় এক পরিবর্তনের দিকে হাঁটছে বিশ্ব ফুটবল। এখন দেখা যাক, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এই নিয়ম বাস্তবায়নের সাহসিক সিদ্ধান্ত নেয় কি না আইএফএবি।



