অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই হৃদরোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ফ্যাট ও কোলেস্টেরল ধমনিতে জমে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত করে, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাবার হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, এমন ছয়টি খাবার রয়েছে যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় এবং তা খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়াই উত্তম। প্রথমত, কোমলপানীয়—প্রতি ১২ আউন্স সোডাজাতীয় পানীয়তে প্রায় ১০ চা চামচ চিনি থাকে, যা নিয়মিত গ্রহণে ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, সাদা ব্রেড ও অতিরিক্ত লবণ—সাদা ব্রেডের উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স দ্রুত রক্তে চিনি বাড়িয়ে দেয়, আর অতিরিক্ত লবণ রক্তনালির ক্ষতি করে ও ব্লক তৈরি করে। তৃতীয়ত, প্রক্রিয়াজাত মাংস—সসেজ, হট ডগ ইত্যাদিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণ বেশি থাকায় একদিন খাওয়ার মাধ্যমেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৪২% বেড়ে যেতে পারে।
চতুর্থত, ফাস্টফুড—উচ্চ ক্যালোরি, চিনি, কোলেস্টেরল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটে ভরপুর এসব খাবার হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ। পঞ্চমত, পিৎজা—লবণ, ফ্যাট ও প্রক্রিয়াজাত মাংসের আধিক্যের কারণে হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। ষষ্ঠত, আইসক্রিম—পরিশোধিত চিনি, ফ্যাটযুক্ত দুধ ও কোলেস্টেরল এতে প্রচুর ক্যালোরি যোগ করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, শরীরচর্চা ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।



