হঠাৎ বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ড যেন অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত ধকধক করতে শুরু করল! এর সঙ্গে ঘাম, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় আর এক ধরনের ভয়াল আতঙ্ক— এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন অনেকেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটি কি শুধুই মানসিক চাপ বা প্যানিক অ্যাটাকের ফল, নাকি আসলে হৃৎপিণ্ডের কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত— যেমন অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন? যেহেতু উভয়ের প্রাথমিক লক্ষণ অনেকটা একই রকম, তাই সাধারণ মানুষ প্রায়ই বিভ্রান্ত হয়ে যান। অথচ চিকিৎসা এবং সতর্কতার গুরুত্ব দুটো ক্ষেত্রে ভিন্ন। চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিকে হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আসল কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
ভারতের মণিপাল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ও কনসালট্যান্ট ডা. কেশব আর জানান, প্যানিক অ্যাটাক ও অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন উভয়ের ক্ষেত্রেই দ্রুত হৃদস্পন্দন, মাথা ঘোরা ও ভয়ের অনুভূতি থাকতে পারে। তবে পার্থক্য হলো, অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন আসলে হৃৎপিণ্ডের অস্বাভাবিক ছন্দ, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে প্যানিক অ্যাটাক মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া মাত্র।
অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন হলো হৃৎপিণ্ডের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেতের কারণে সৃষ্ট অনিয়মিত ও দ্রুত হৃদস্পন্দন। এটি সাধারণত বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে দ্রুত বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, মাথা ঘোরা বা বমিভাব, ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দেন, এই সমস্যা উপেক্ষা করলে স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর বা হৃদ্যন্ত্রের বাম কক্ষ দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, প্যানিক অ্যাটাক হলো হঠাৎ অত্যধিক ভয় বা আতঙ্কের আক্রমণ, যা কয়েক মিনিটের মধ্যে তীব্র হয়। সাধারণত মানসিক চাপ, পরীক্ষা, আবেগগত সমস্যা কিংবা কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই এটি ঘটতে পারে। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, মাথা ঘোরা বা হালকা মাথা লাগা, অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি, বুকে ব্যথা এবং আতঙ্ক বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি। যদিও এটি প্রাণঘাতী নয়, তবে জীবনযাত্রার মানকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। প্রয়োজনে থেরাপি, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বা ওষুধের মাধ্যমে এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ডা. কেশব আর-এর মতে, বারবার দ্রুত হৃদস্পন্দন হওয়া মানেই তা অ্যানজাইটি নয়। কারণ অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন একটি গুরুতর সমস্যা, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই হঠাৎ বা নিয়মিত দ্রুত হৃদস্পন্দন হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইসিজি বা ইকোসহ প্রয়োজনীয় টেস্ট করা জরুরি। দ্রুত শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা নিলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।



