হঠাৎ করে শরীর শুকিয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এটি শুধু খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের কারণে নয়, বরং শরীরের অভ্যন্তরে চলতে থাকা কোনো জটিল রোগ বা পুষ্টিহীনতার ফলেও হতে পারে। তাই ওজন হ্রাসের পেছনের প্রকৃত কারণ জানা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হলে অতিরিক্ত প্রস্রাব, পিপাসা, ক্ষুধা ও আকস্মিক ওজন হ্রাস দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, হাইপারথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড গ্রন্থির অতিসক্রিয়তার কারণে বিপাকক্রিয়ার গতি বেড়ে গিয়ে শরীর দ্রুত ওজন হারাতে পারে। তৃতীয়ত, ক্যানসার রোগের বিভিন্ন ধরনের প্রভাবে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে না পারায় ওজন কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া ক্ষয় রোগ বা টিবি-তে দীর্ঘমেয়াদি কাশি, জ্বর, রাতে ঘাম এবং দ্রুত ওজন কমে যাওয়া লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। হজম ও অন্ত্রের রোগ যেমন: ক্রোন’স ডিজিজ, সেলিয়াক ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগগুলোও শরীর থেকে পুষ্টি শোষণ ব্যাহত করে ওজন হ্রাস ঘটাতে পারে। একইভাবে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা বিষণ্নতা ক্ষুধা কমিয়ে শরীর শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
অনেক সময় সংক্রমণ বা পরজীবী আক্রমণ থেকেও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ওজন হ্রাস পায়। পাশাপাশি, পুষ্টিহীনতা বা অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া শরীরকে দুর্বল ও অপুষ্ট করে তোলে, যার ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমে যেতে পারে।
করণীয় হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু প্রাথমিক পরীক্ষা জরুরি। যেমন:
রক্ত পরীক্ষা: CBC, ব্লাড সুগার, থাইরয়েড প্রোফাইল
ইউরিন ও স্টুল টেস্ট
প্রয়োজন হলে এক্স-রে বা আল্ট্রাসোনোগ্রাম
সতর্কতা হিসেবে, যদি শরীর শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, বুক ধড়ফড়, দীর্ঘদিনের কাশি বা জ্বর দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।



