সৌদি আরবে প্রবাসীদের জন্য এক যুগান্তকারী সুখবর এসেছে। একসময় যা কেবল সৌদি নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সেই রিয়েল এস্টেট মালিকানার সুযোগ এবার বিদেশিদের জন্যও খুলে দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল কাঠামো ভেঙে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সৌদি আরব বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে, যেখানে ভাড়াবাড়ির অনিশ্চয়তা পেরিয়ে প্রবাসীরাও নিজেদের বাড়ি বা জমির মালিক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার সৌদি রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (রিগা) আনুষ্ঠানিকভাবে নন-সৌদিদের রিয়েল এস্টেট মালিকানা সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা কার্যকর করার ঘোষণা দেয়। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরবে বসবাসরত ও অনাবাসী—উভয় ধরনের বিদেশিরাই এখন নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন।
নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে চালু করা হয়েছে ‘সৌদি প্রপার্টিজ’ নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যোগ্যতা যাচাই থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হবে অনলাইনে। যাদের বৈধ ইকামা বা আবাসন অনুমতি রয়েছে, তারা সরাসরি এই পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন। আর যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তারা নিজ নিজ দেশের সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
তবে সব এলাকায় মালিকানার সুযোগ থাকছে না। পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় কেবল মুসলিম ব্যক্তি এবং শতভাগ সৌদি মালিকানাধীন কোম্পানিই রিয়েল এস্টেট কেনার অনুমতি পাবে। এছাড়া রিয়াদ ও জেদ্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর জন্য আলাদা ভৌগোলিক জোনভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশ করা হতে পারে।
যেসব বিদেশি কোম্পানির সৌদি আরবে সরাসরি উপস্থিতি নেই, তারা ‘ইনভেস্ট সৌদি’ পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধন করে একটি ইউনিফায়েড নম্বর সংগ্রহের পর মালিকানার জন্য আবেদন করতে পারবে। সরকারের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ডেভেলপার ও উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে দেশের আবাসন খাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করা।
রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির মুখপাত্র তাইসির আল মুফারেজ জানান, কোন এলাকায় কী ধরনের সম্পত্তি কেনা যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনো কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি, তাই সরকারি ঘোষণার বাইরে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সৌদি আরবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াবে এবং আবাসন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

