দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা পৌঁছাচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পিটার হাসের বিদায়ের পর দীর্ঘদিন শূন্য থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে ক্রিস্টেনসেনের যোগদানের বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অভিজ্ঞ এই কূটনীতিকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার: ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি এর আগে ২০১৯-২০২১ মেয়াদে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কে তাঁর গভীর জানাশোনা রয়েছে। কর্মজীবনে তিনি ম্যানিলা, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে দায়িত্ব পালন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে শপথ গ্রহণের পর তিনি পুনরায় বাংলাদেশে ফিরতে পারার বিষয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
আসন্ন নির্বাচন ও অগ্রাধিকারসমূহ: দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রিস্টেনসেন রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। তাঁর আগমনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব বহন করছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া মানবাধিকার সুরক্ষা, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক বাধা দূর করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
কূটনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রিস্টেনসেনের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকায় ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি ও স্থিতিশীলতা আসবে। বিশেষ করে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয়তা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখতে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা হতে পারে অত্যন্ত জোরালো। দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূত পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



