বাড়ির সেপটিক ট্যাংক ও পরিত্যক্ত কূপ যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। কখনো পরিষ্কার করতে নেমে, আবার কখনো অসতর্কতায় প্রাণ হারাচ্ছেন শিশু, শ্রমিক ও পরিবারের সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এ ধরনের দুর্ঘটনায় ২২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কখনোই বদ্ধ স্থানে নামা উচিত নয়। সম্প্রতি দেশে সেপটিক ট্যাংক ও পরিত্যক্ত কূপে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড, মিথেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন মানুষকে অচেতন করে ফেলতে পারে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে আগে থেকে গ্যাস পরীক্ষা করা হয় না। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ বলেন, ‘অনেকেই জানেন না এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।’ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ১৭৫টি দুর্ঘটনায় ২২৯ জন নিহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলেই অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। সেপটিক ট্যাংক বা পরিত্যক্ত কূপে নামার আগে জ্বালানো হারিকেন বা কূপি দড়ি দিয়ে ধীরে ধীরে ভেতরে নামালে অক্সিজেনের ঘাটতি বোঝা যায়। এছাড়া পাতাসহ গাছের ডাল দড়িতে বেঁধে বারবার ভেতরে উঠানামা করালে কিছু বিষাক্ত গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। ঢাকা ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং কমপ্লেক্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সতর্কতা মানলে এসব স্থানে দুর্ঘটনা শতভাগ এড়ানো সম্ভব।’



