কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের নদ-নদীতে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে দুই মাসের জন্য কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকা এই নিষেধাজ্ঞার ফলে গহিন সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন হাজার হাজার জেলে। বন বিভাগের তথ্যমতে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে, যারা সাগরের নোনা পানি থেকে নদীতে এসে ডিম পাড়ে। এই প্রজনন প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন করতেই সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পাস-পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে সুন্দরবনে মাছ ধরার অনুমতি অব্যাহত থাকলেও বিপাকে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার পেশাদার কাঁকড়া শিকারি। শ্যামনগর উপজেলার নিবন্ধিত ২২ হাজার ২২০ জন জেলের প্রায় অর্ধেকই কাঁকড়া আহরণের ওপর নির্ভরশীল। দাদন বা ঋণের বোঝা এবং বিকল্প আয়ের অভাব থাকায় অনেক জেলে পরিবার এই দুই মাস মানবেতর জীবন যাপন করেন। তাই কাঁকড়া প্রজননের স্বার্থে সরকারি এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জীবনধারণের জন্য বিশেষ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন উপকূলীয় জেলেরা।



