আপনি কি কখনো লক্ষ্য করেছেন, সিঁড়ি ওঠার পর শ্বাস ফোলা হয়ে যায় বা মনে হয় শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হচ্ছে? যদি হ্যাঁ, তবে আপনি একা নন। এমন সমস্যা শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বরং ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অ্যাথলেটরাও মাঝে মাঝে অনুভব করেন। উদাহরণস্বরূপ, চারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলেট এমিলিয়া বনি এক টুইটে জানিয়েছেন, কয়েকটি মঞ্জিল ওঠার পরও তার শ্বাস ফোলা হয়ে যায়।
সিঁড়ি ওঠার সময় শরীরের প্রতিক্রিয়া
মাটি বরাবর দৌড়ানো বা হাঁটার তুলনায় সিঁড়ি ওঠার সময় শরীর ভিন্ন ধরনের চাপের মুখোমুখি হয়। এটি মূলত পেশীর কারণে ঘটে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর টিমোথি জে. মাইকেল জানান, আমাদের পেশীর দুটি ধরনের ফাইবার রয়েছে। স্লো-টুইচ ফাইবার ক্লান্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং দীর্ঘ সময়ের শারীরিক কার্যকলাপে সহায়তা করে। ফাস্ট-টুইচ ফাইবার তখন সক্রিয় হয় যখন শরীর হঠাৎ করে শক্তিশালী কাজ করতে হয়, যেমন লাফ দেওয়া বা সিঁড়ি চড়া। সিঁড়ি ওঠা তাই ফাস্ট-টুইচ ফাইবারকে বেশি সক্রিয় করে।
মিডওয়েস্টার্ন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজিস্ট প্রফেসর ফ্রাঙ্ক হোয়াইট বলেন, সিঁড়ি ওঠার সময় শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন সংক্রান্ত সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। ফলে যত বেশি পদক্ষেপ নেন, তত দ্রুত ক্লান্তি আসে এবং শ্বাস ফোলা শুরু হয়।
অন্যান্য কারণ
১. মহাকর্ষার বিরুদ্ধে কাজ: সিঁড়ি ওঠার সময় শরীরের ওজন উপরের দিকে তোলা হয়, ফলে পা ও পেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়।
২. প্রস্তুতি না থাকা: হঠাৎ সিঁড়ি ওঠা হলে শরীর প্রস্তুত থাকে না, ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং শ্বাস ফোলার সমস্যা দেখা দেয়।
৩. অপ্রচলিত পেশীর ব্যবহার: সিঁড়ি ওঠার সময় এমন পেশীও কাজ করে যা সাধারণত ব্যবহার হয় না।
৪. অক্সিজেনের অভাব: প্রতিটি ব্যক্তির সক্ষমতা আলাদা। কেউ চার মঞ্জিলও সহজে ওঠে, আবার কেউ দুই মঞ্জিলের পরই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
৫. ঘাম আসা: ঘাম আসা মানেই আপনার ফিটনেস কম, এমন নয়। ফিট মানুষও দ্রুত ঘামতে পারে, কারণ এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
সিঁড়ি ওঠার সময় শ্বাস ফোলা হওয়া স্বাভাবিক। এটি পেশীর অতিরিক্ত ব্যবহার, মহাকর্ষার বিরুদ্ধে কাজ, প্রস্তুতির অভাব এবং অক্সিজেনের চাহিদার কারণে হয়। এটি শরীরের ফিটনেসের অভাব নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
সূত্র : জিও নিউজ



