বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল থেকে সাকিব আল হাসানের বিদায়ের ঘণ্টা যেন ধীরে ধীরে শোনা যাচ্ছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে মাঠে তার অনুপস্থিতির প্রভাব স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেছেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, সাকিব দলে থাকলে একাদশ নির্বাচনে কিছুটা বিলাসিতা করা যেত। তখন একজন অতিরিক্ত ব্যাটার বা বোলার রাখার সুযোগ থাকত, যা এখন আর সম্ভব নয়।
সালাহউদ্দিন বলেন,
“সাকিব থাকাকালে আমাদের কাছে লাক্সারির সুযোগ ছিল। তখন হয়তো একজন অতিরিক্ত ব্যাটার বা বোলার খেলানো যেত। এখন সে সুযোগ নেই।”
সাকিব একজন অলরাউন্ডার হিসেবে দলের ভারসাম্য রক্ষা করতেন—একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ব্যাটার এবং কার্যকর বোলার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। তার অনুপস্থিতিতে এখন টিম কম্বিনেশন সাজানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো ব্যাটিং গভীরতা কমে যায়, আবার কখনো বোলিং আক্রমণ দুর্বল হয়ে পড়ে।
সালাহউদ্দিন আরও বলেন,
“নাসুমকে খেলালে সুবিধা পাওয়া যেত, কিন্তু তখন রিশাদকে বসিয়ে দিতে হতো। আবার ব্যাটিং অর্ডারের দিকেও তাকাতে হয়—কয়জন ব্যাটার আছে, কে ফর্মে আছে বা কে নেই।”
তিনি দল নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার ব্যাপারেও পরিষ্কার ভাষায় বলেন,
“সব সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে নেওয়া হয়। সেরা একাদশ মাঠে নামানোর চেষ্টাই থাকে সবার আগে। তবে এখানে কোনো বিলাসিতা করার জায়গা নেই। আমাদের বাস্তবতা বুঝেই এগোতে হয়।”
এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, সাকিবের অবর্তমানে বাংলাদেশ দল এখন টেকনিক্যাল ও কৌশলগত সংকটে আছে। তার অভিজ্ঞতা ও বহুমুখী দক্ষতা না থাকায় একাদশ গঠনে ব্যাপক হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।



