প্রতিটি সম্পর্কেই উত্থান-পতন থাকে—কখনো সম্পর্ক মধুর হয়, কখনো দুর্বল হয়ে পড়ে, আবার কখনো ফাটলের দিকেও এগোয়। অনেক সময় এক পক্ষ সম্পর্ক বাঁচাতে চাইলেও অন্য পক্ষ সরে যায়। অথচ সবাই চায়, সম্পর্ক হোক সুস্থ, সুন্দর ও টেকসই। ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের দুই সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ—ডেটিং কোচ তালিয়া কোরেন এবং রিলেশনশিপ ট্রেইনার সিদ্ধার্থ এস কুমার—তাদের অভিজ্ঞতা থেকে সম্পর্ককে মজবুত রাখার কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
১. কিছু ভুল এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত সন্দেহ বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না। মিথ্যা বলা, অবহেলা করা কিংবা মানসিক বা শারীরিক আঘাত থেকে বিরত থাকুন। নিজের আবেগ জমিয়ে না রেখে খোলামেলা আলোচনা করুন। সঙ্গীর প্রতি আগ্রহ কমে গেলে সেটাও লুকিয়ে রাখবেন না।
২. একসঙ্গে সময় কাটান
সপ্তাহে অন্তত ১-২ দিন একে অপরের জন্য রাখুন। একসঙ্গে খাওয়া, হাঁটা কিংবা সামান্য বার্তালাপও সম্পর্ককে গভীর করে। ব্যস্ততার মাঝেও ছোট ছোট মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়াই সবচেয়ে বড় শক্তি।
৩. নিজেকে আগে ভালোবাসুন
আত্মবিশ্বাসী হোন এবং নিজেকে সম্মান করুন। মনে রাখবেন, আপনি যদি নিজেকে ভালো না বাসেন, অন্য কারও ভালোবাসা ধরে রাখা কঠিন। সুখী সম্পর্কের শুরু হয় নিজেকে গ্রহণ করার মাধ্যমে।
৪. বাস্তবিকভাবে ডেট করুন
শুধু অনলাইন যোগাযোগে সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বাস্তবে দেখা করার সুযোগ তৈরি করুন। নতুন কাউকে ডেট করা মানেই বড় কিছু নয়—এটা শেখার অভিজ্ঞতা। খোলা মন ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখুন।
৫. ডেটিং হোক আনন্দের
ডেট যেন চাপ না হয়—বরং আনন্দ আর আরামের অনুভূতি থাকুক। কফি খাওয়া, গল্প করা, হালকা হাঁটা—এসবই গভীর সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে। যান্ত্রিক ডেটের বদলে আন্তরিক সময় দিন।
৬. অতিরিক্ত চিন্তা বাদ দিন
‘ভবিষ্যতে কী হবে?’ বা ‘সে কি আমাকে ফিরিয়ে দেবে?’—এসব দুশ্চিন্তা বাদ দিন। প্রত্যাখ্যান হলে নিজেকে বলুন, এটা শেখার সুযোগ। প্রতিটি অভিজ্ঞতা আপনাকে আরও পরিণত করে।
৭. বাস্তব প্রত্যাশা রাখুন
মানুষ মাত্রই ত্রুটিপূর্ণ—নিখুঁত সঙ্গী খোঁজা বন্ধ করুন। অতিরিক্ত প্রত্যাশাই সম্পর্ক ভাঙার কারণ হয়। বরং মানুষকে তার বাস্তবতা নিয়েই গ্রহণ করুন এবং ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ুন।
অতিরিক্ত টিপস:
নিজের মূল্যবোধ, চাহিদা ও সীমা আগে বুঝুন। নিজের মান বজায় রাখুন, তবে নমনীয়তাও রাখুন। যদি বোঝেন কোনো সম্পর্ক আপনার মান অনুযায়ী নয়, তবে সরে আসতে ভয় পাবেন না।
সুস্থ সম্পর্ক গড়তে শুধু ভালোবাসা নয়, প্রয়োজন সমঝোতা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ। নিজেকে ভালোবাসুন, সঙ্গীর পাশে থাকুন—তাহলেই সম্পর্ক হয়ে উঠবে দীর্ঘস্থায়ী ও মধুর।



