বাংলাদেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথযাত্রা। উৎসবের দিন, ২৭ জুন ২০২৫, দেশের বিভিন্ন জেলার রাজপথ ভরে ওঠে ভক্তদের পদচারণায়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, ধর্মীয় সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই দিনটি পরিণত হয় এক মহামিলনের উৎসবে—যেখানে প্রকাশ পায় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
চট্টগ্রামে ইসকনের উদ্যোগে নন্দনকানন তুলসীধাম, রাধামাধব মন্দির ও প্রবর্তক মোড় থেকে তিনটি রথযাত্রা বের হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার রাজীব রঞ্জন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপ পুরী মহারাজ।
সিলেটে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শুরু হয় রিকাবীবাজার প্রাঙ্গণ থেকে, যেখানে অংশ নেয় ২৫টি মন্দির ও আখড়া। এখানে নয় দিনব্যাপী উৎসব পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিএনপি নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ।
খুলনায় দৌলতপুরের পাবলা বণিকপাড়া গাছতলা সার্বজনীন মন্দির থেকে রথযাত্রার সূচনা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদে নয়, ভালোবাসায় বিশ্বাসী আমরা।
গাজীপুরে প্রাচীন মাণিক্য মাধবের রথযাত্রা ও রথমেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। প্রায় দুশো বছরের ঐতিহ্যের এই আয়োজনে হাজারো মানুষ অংশ নেয়। শিশুদের জন্য বসে নাগরদোলা ও হস্তশিল্পের দোকান।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে হরেকৃষ্ণ নামহট্ট সংঘের সহযোগিতায় আয়োজিত রথযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শাহিনা আক্তার ও সহকারী কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম বারি। অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ধর্মীয় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রা। ভক্তরা ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে রথ টানেন।
পাবনার ঈশ্বরদীতে রথযাত্রা শুরু হয় মাতৃ মন্দির থেকে এবং শেষ হয় প্রয়াত নরেশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে। এতে অংশ নেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও।
দিনাজপুরে একাধিক স্থান থেকে বের হয় রথযাত্রা। হাজার হাজার ভক্ত খালি পায়ে রথ টানেন এবং বাতাসা, সন্দেশ, ফল ছিটিয়ে দেন। এটিকে বলা হয় “ভক্তি আন্দোলনের উৎসব” যেখানে ঈশ্বর নিজেই ভক্তদের কাছে আসেন।
ফুলবাড়ীতে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পাঁচ হাজারেরও বেশি ভক্ত অংশগ্রহণ করেন। শিব মন্দির থেকে শুরু হয়ে শ্যামা কালী মন্দির পর্যন্ত চলে রথযাত্রা।
নীলফামারীর ডিমলার গৌড়ীয় আশ্রমে রথযাত্রা শুরু হয় পূজা শেষে। রথ যাত্রায় হরিনাম সংকীর্তন, উলুধ্বনি, এবং প্রসাদ বিতরণ ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
সুনামগঞ্জে শহর প্রদক্ষিণকারী রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল নামে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, সুনামগঞ্জ হলো “সম্প্রীতির রাজধানী”।
বাগেরহাটের লাউপালায় ১৫ দিনব্যাপী রথমেলা শুরু হয়েছে রথ টানার মধ্য দিয়ে। হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসকনের আয়োজনে রথযাত্রা র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। ভক্তরা জানান, এ উৎসব জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।
লক্ষ্মীপুরে শ্যামসুন্দর জিউর আখড়া ও চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির থেকে রথ টানেন ভক্তরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মীয় গুরুগণ।


