ক্রিকেটারদের মূল দায়িত্ব মাঠে পারফর্ম করা হলেও দেশের তারকা ক্রিকেটারদের প্রায়ই বিভিন্ন পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর আবারও একটি বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেইনে হাজির হয়ে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তবে এবার বিষয়টি শুধু বিজ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ নয়—দেশপ্রেমের বার্তা তুলে ধরায় ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন ‘কাটার মাস্টার’।
এই ক্যাম্পেইনে দেশপ্রেমকে উপস্থাপন করা হয়েছে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গিতে। বার্তাটি স্পষ্ট—দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে সবসময় ক্রিকেট মাঠের প্রয়োজন নেই; দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েও দেশপ্রেম প্রকাশ করা যায়। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে মোস্তাফিজকে দেখা যায় একেবারে সাধারণ এক নাগরিকের ভূমিকায়। হাতে শপিং ট্রলি, বুকে লেখা ‘বাংলাদেশ’, চারপাশে নেই কোনো গ্ল্যামার বা তারকাসুলভ উপস্থিতি। তিনি যেন প্রতিদিনের জীবনেরই একজন মানুষ।
বিজ্ঞাপনের এক পর্যায়ে দোকানে দাঁড়িয়ে মোস্তাফিজ বিক্রয়কর্মীর কাছে জানতে চান, ‘সেনসিটিভ টুথপেস্টগুলো কোথায়, বাইরেরগুলো?’ নির্দিষ্ট শেলফে গিয়ে বিদেশি পণ্য হাতে নেওয়ার মুহূর্তেই দৃশ্যে হাজির হন একজন ডেন্টিস্ট। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘বুকে বাংলাদেশ আর হাতে বিদেশি?’ জবাবে মোস্তাফিজ জানতে চান, ‘দেশে কি ভালো মানের সেনসিটিভ টুথপেস্ট আছে নাকি?’ তখন ডেন্টিস্ট দেশীয় প্রতিষ্ঠান স্কয়ারের হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ টুথপেস্ট তুলে ধরেন। কোনো দ্বিধা না করেই সেটিই নিজের ট্রলিতে তুলে নেন মোস্তাফিজ। এরপর তার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ক্যাম্পেইনের মূল বার্তা—‘মাঠের বাইরেও তো আমরা এভাবেই দেশপ্রেম দেখাতে পারি।’
ক্রিকেট মাঠে মোস্তাফিজুর রহমান বল হাতে প্রতিপক্ষের স্টাম্প উপড়ে দিয়ে দেশের জন্য লড়েন, জয় এনে দেন বাংলাদেশকে। তবে ময়দানে জয় এনে দেওয়াই দেশপ্রেমের একমাত্র পথ নয়—দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমেও দেশের অর্থনীতি ও শিল্পকে শক্তিশালী করা যায়। এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোস্তাফিজ সেই বার্তাটিই তুলে ধরেছেন।
মাঠের পারফরম্যান্সেও সময়টা ভালোই যাচ্ছে এই পেসারের। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রকাশিত টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৬৬৫, যা বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে অন্যতম সেরা অর্জন।
এদিকে আসন্ন আইপিএলের জন্য রেকর্ড পারিশ্রমিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সে ডাক পেলেও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে তাকে দলে রাখেনি কেকেআর। এই ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা হলেও মোস্তাফিজ এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। অনেকের চোখে, এই নীরবতাই প্রমাণ করে—অর্থ বা ব্যক্তিগত লাভের চেয়েও তার কাছে দেশের স্বার্থই সবার আগে। মাঠে ও মাঠের বাইরে—দুই জায়গাতেই দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।



